প্রেমিকা যখন অন্যকারো বউ অসমাপ্ত ভালোবাসার গল্প 2021

আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে বাংলা অসমাপ্ত ভালোবাসার গল্প ছোট গল্প কাহিনী 2021 । এই অসমাপ্ত ভালোবাসার কষ্টের গল্পতে আপনারা জানতে পারবেন যদি ভালোবাসা ঠিক সময়ে প্রকাশ করা না হয় তাহলে তা হারিয়ে যেতে সময় লাগে না । তো বন্ধুরা আমাদের chhota golpo ওয়েবসাইডে আপনাদেরকে স্বাগতম । দেখতে থাকুন এই অসমাপ্ত ভালোবাসার এই গল্প টি ।

অসমাপ্ত ভালোবাসার গল্প

অসমাপ্ত ভালোবাসার গল্প,অসমাপ্ত ভালোবাসার গল্প কাহিনী,অসমাপ্ত ভালোবাসার কষ্টের গল্প,অসমাপ্ত ভালোবাসা
অসমাপ্ত ভালোবাসার গল্প

তুমি আমাকে ভালোবাসো ?
না ।
এই শেষবারের মত জিজ্ঞেস করছি ?
উঁহু না ।
উত্তরটা না দিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে ছিল শুভ । নীশা উত্তরটা পেয়ে বেশ শান্ত ভাবে ব্যাগটা নিয়ে উঠে পড়ে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে ।( অসমাপ্ত ভালোবাসার গল্প )


বাড়িতে এসে নিশা কান্নায় ভেঙে পড়ল বেশ কিছুক্ষণ তারপর নিজেকে শক্ত করা যথাযথ চেষ্টা করলো ।
কারণ তাকে দুর্বল হলে এক্কেবারে চলবেনা । বাস্তবতাকে মেনে নিতেই হবে মানুষ যা চায় সবসময় তা তো পাওয়া যায় না । যেকোনো পরিস্থিতিতে সহজভাবে মেনে নেওয়ার চেষ্টা করতে হয় এতে কষ্টের পরিমাণ কমে যায় ‌ ।


নিশা ধীরে ধীরে নিজেকে বোঝাল শুধু প্রাপ্তিতে সুখ বিরাজ করে না ‌। বরং ত্যাগ ও সুখও আছে । তাই সে তার ভালোবাসাকে ত্যাগ করে নিজের নতুন জীবনের দিকে পা বাড়াবে । ( অসমাপ্ত ভালোবাসার গল্প )

তার মা-বাবা সুখের জন্য হলেও তাকে ত্যাগ করতেই হবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। সে দ্রুত নিজের ফোনটি নিয়ে সবখানি সৌরভ কে ব্লক করে দিল ।
এই ভেবে সারারাত দুচোখের পাতা এক করতে পারল না নিশা প্রিয় মানুষটিকে হারানোর যন্ত্রণা ওষুধ হয়ে ঝরছে । সৌরভের চোখেও ঘুম নেই আজ । কাল সে তার প্রাণ প্রিয় মানুষটাকে জানাবে তার ভালোবাসার কথা ।


হ্যাঁ কাল বিকালে সে তার বাবা মা সহ যাবে নিজের বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে । এই দিনের অপেক্ষায় এইতো গত চার বছর ধরে ফিরিয়ে দিচ্ছিল নিশাকে চার বছর আগে প্রথম নিশা তাকে বলে …
সৌরভ শোনো না ?
হ্যাঁ বল কি বলছ?


তুমি আমায় ভালোবাসো?
কি বলিস কাকে?
সৌরভ আমি তোকে ভালোবাসি
ওহ
কি ওহ ?
আমি বুঝলাম আমায় তুই ভালোবাসিস ! ( অসমাপ্ত ভালোবাসার গল্প )

অসমাপ্ত ভালোবাসার গল্প কাহিনী


তুই বাসিস না।
তুই বাসবি, তোর চৌদ্দগুষ্টি বাসবে । হুহ ।
এই বলে চলে গেল নিশা চার বছরের ইচ্ছে সফল হল সৌরভের মুখে ভালোবাসা শোনার । বিকেল হতেই সৌরভ তার বাবা-মা সব পৌঁছে গেলো নিশার বাড়ি ।


এই নিয়তি যে তার ভাগ্যে তার ভালোবাসা রাখেনি তা বুঝতে পেরে বাকরুদ্ধ হয়ে যায় সৌরভ । নীশার বাসায় এসে জানতে পারে তার ভালোবাসা অন্য কারো স্ত্রী । ( অসমাপ্ত ভালোবাসার গল্প কাহিনী )


আজকে সকালে নিশার ইচ্ছেতে ঘরোয়াভাবে বিয়েটা হয়ে গেছে পৃথিবী যেন থমকে গিয়েছে। সৌরভ এর কানে শুধু একটাই প্রতিধ্বনি হচ্ছে শেষবারের মতো জানতে চাইছি, “ভালোবাসো” ।


তখন ভাঙ্গা হৃদয় বাড়ি ফিরে যাই সৌরভ। গতকাল যদি না না বলে নিজের মনের কথাটা বলে দিত তাহলে হয়তো আর নিশা আজ ওরই থাকতো ।
কি এমন হতো যদি তখন সে বলে দিত কিছুই না কিন্তু না বলে আজ নিজের প্রিয় কে হারালো তো আজ সৌরভ বুঝল মন খুলে বাঁচা উচিত । যা বলার তা সময় থাকতে বলে দেওয়া উচিত। ( অসমাপ্ত ভালোবাসার গল্প কাহিনী )


কারণ আমরা কেউ জানিনা আগামী আমাদের জন্য কি অপেক্ষা করছে প্রিয় মানুষগুলি আগলে রাখতে হয় অবহেলা করতে হয়না কারো তারা আমাদের অবহেলা কখনোই সহ্য করতে পারে না ।
আমরাও যে খুব প্রিয় তাদের কাছে তাই না ।

প্রায় দু বছর পর…..
এভাবে দেখতে দেখতে প্রায় দুটো বছর কেটে গিয়েছে । এই দু বছরে একেবারে নিশা আর সৌরভের দেখা হয়নি কথাও হইনি ।
আজ নিশা আর সঞ্জয়ের বিবাহ বার্ষিকী তারা দুজনে এক রেস্টুরেন্টে এসেছে ভালো সময় কাটাতে। রেস্টুরেন্টে এসে বসার পর চোখে চোখ যায় সামনে এক টেবিলে। ওইখানে বসে ছিলো সৌরভ একা। ( অসমাপ্ত ভালোবাসার গল্প কাহিনী )

সৌরভ কখনো তখন ই দেখে নি নিশাকে । নিশা চেয়েছিল সৌরভ যাতে তাকে না দেখে কিন্তু হঠাৎ দেখে নেই সৌরভ । সৌরভ খুশিতে ছুটি আছে নিশার কাছে ।

অসমাপ্ত ভালোবাসার ছোট গল্প

কিন্তু কিছু বলার আগে চোখ যায় নিশার বিপরীতে বসে ওর স্বামীর দিকে অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে সৌরভ আর সৌরভের এইভাবে উঠে আসায় নিশাও অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে । এ দেখে কিছুটা বুঝতে পেরে সঞ্জয় জিজ্ঞেস করে ইচ্ছেকে….

উনি কি সৌরভ?
সঞ্জয়ের প্রশ্নে বেশ অবাক হয়ে সৌরভ । সঞ্জয় ওর নাম কি করে জানে । তবে কি নেশায় সঞ্জয় কে সব বলেছে ।
হ্যাঁ । ( অসমাপ্ত ভালোবাসার ছোট গল্প )

তখন সঞ্জয় দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল ।
আমি সঞ্জয় নিশার হাজবেন্ড ।
সৌরভ নিশার ফ্রেন্ড ।
হুমম ! প্লিজ জয়েন আস ।
এনি আদার টাইম?

নো প্লিজ জয়েন আস নাও।
ওকে
থ্যাংকস।
প্লে সার্ফ ‌ ।
তো তোমরা কথা বলো আমি একটু ওয়াশ রুমে থেকে আসছে ।

তুমি কেমন আছো সৌরভ।
সৌরভ নিচের দিকে তাকিয়ে একটা মনের হাসি দিয়ে যা প্রান হাসির অর্থ বুঝতে সক্ষম হলো না নিশা । নিশা আবার বলতে শুরু করল…
তুমি বিয়ে করেছো ?
না ।

কেন ।
মন মত কাউকে পাইনি ।
জবাবে একটি তাচ্ছিল্যের হাসি দিল নিশা ।
তুমি বেশ ভালোই তো আছো ?
হ্যাঁ আমি বেশ আছি । ( অসমাপ্ত ভালোবাসার ছোট গল্প )

জবাবে কিছুই বলেনি সৌরভ তবে বুকের বা পাশের এক অদ্ভুত চিনচিন ব্যাথা অনুভব করছিল । সৌরভ ইচ্ছে করছিল জানতে কিভাবে ভালো আছে নিশা !
তুমি তো আমায় ভালবাসতে তবে আমিহীনা কিভাবে ভালো আছো । তুমি বেশ কিছু সময় দুজনের নীরব ছিল হঠাৎ বলতে আরম্ভ করলো …

জানো সৌরভ সে রাতে আমি খুব কেঁদেছিলাম । তোমার পাওয়ার আকাঙ্খাই তীব্র থেকে তীব্র হচ্ছিল ।
আমার মন চাচ্ছিল ছুটে যাই তোমার কাছে আর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলি সৌরভ । তুমি হীনা আমি অসম্পূর্ণ । তুমি ব্যতীত অন্য কারো হয় আমার পক্ষে অসম্ভব ।

কিন্তু পারেনি সেই দিনগুলো বলতে । কারন জানি প্রতিবারের মতো এবারও ফিরিয়ে দেবে । একটু কষ্ট নিয়ে করে ফেললাম আমি বিয়েটা । বিয়ের পর তিন মাস আমি জীবিত লাশ হয়ে ছিলাম ।
আমি সময়ে-অসময়ে কেঁদেও দিতাম । এই তিন মাসে একবার আমায় ছৌয়নি । ওর সাথে তো কথাই বলতাম না ।

অসমাপ্ত ভালোবাসার কষ্টের গল্প

বিনা দোষে ছেলেটা কষ্ট পেয়ে যাচ্ছিলো । তিন মাস পর একদিন ও জোর করে আমার সাথে কথা বলে জানতে চাই আমার অতীত । সেদিনই সব বলে দিই ওকে ।
এটাকে বলে থামে নীশা । এক বুক অপরাধবোধ আর জানার ইচ্ছে নিয়ে এতক্ষণ তাকিয়েছিল সৌরভ নীশার দিকে । বেশ কিছু সময় নীরব থাকা আবার বলতে শুরু করল নীশা ….

জানো শব্দ শোনার পর ও আমার হাত ধরে একটা নতুন জীবনের পথ দেখাল সেই দিন পর থেকে আমি আর সঞ্জয় বন্ধুদের মত থাকতে শুরু করি ।
ও আমার সব স্বপ্ন পূরণে আমাকে সাহায্য করবে বলেছে । তবে হ্যাঁ এখন আমি একটা রেস্টুরেন্টের মালিক । এই সবটাই সম্ভব হয়েছে ভগবানের ভরসা ও সঞ্জয় এর সাহায্যে ।

এতদিন চলে যাওয়ার পর ওর প্রতি আমার সম্মান আর ভালো লাগা দুটোই বাড়তে থাকে । তাই আমাদের বিয়ের প্রথম বিবাহ বার্ষিকীতে আমি বুঝতে পারি আমার মনের বেশ অনেকটা জায়গা দখল করে নিয়েছে সঞ্জয় ।
সঞ্জয় আমার প্রতিটা অভ্যাসে পরিণত হয় আমার সব কিছুতেই আমি ওর প্রয়োজন অনুভব করতে পারি । অবশেষে বুঝলাম যে আমি সঞ্জয় কে খুব ভালবেসে ফেলেছি ‌‌।

এসব বলার পর আবারও থেমে গেল নিশা । সৌরভ স্তব্ধ হয়ে শুনলো সবকিছু এজে মৃত্যুর ন্যায় যন্ত্রনা ।
বেশ কিছু সময় নীরবতা পর ভরা গলায় সৌরভ জিজ্ঞাসা করল ।
আমার সমস্ত জায়গাটা তবে সঞ্জয় কে কে দিয়ে দিয়েছো ?

উহ উহ ! আমার মনে তোমার যে জায়গা ছিল তা আজও আছে । সঞ্জয় তো তার নিজের জন্য নতুন জায়গা করে নিয়েছে ।
অহহ….
তুমি আমার প্রথম প্রেম যা ভুলার সাধ্য আমার নেই । কিন্তু তোমার প্রতি অনুভব হওয়া আছে প্রত্যেক অনুভূতি প্রাণহীন পড়ে আছে মনের এক কোনায় । ( অসমাপ্ত ভালোবাসার কষ্টের গল্প )

যা এখনো যন্ত্রণা দে আমায় এই যে অতীতের কাঙ্খিত কাউকে না পাওয়ার এক তীব্র যন্ত্রণা, সৌরভ ।
এইসব শোনার পর টুপ করে এক ফোটা জল গড়িয়ে পড়ল সৌরভের গলা বেয়ে । যা নিশা দেখার আগেই মুছে নিল সৌরভ । তারপর বলল…

তুমি পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও নিশো আমার একটা ভুলের আমাদের দুজনের জীবনটা অন্ধকার হয়ে গেল ।
তোমায় নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই আমার মনে ।
তোমাকে অনেক ধন্যবাদ ।

তা বিয়ে টা না হয় এবার করে নিও বড় হয়ে গেছে তো ।
কি আমি বুড়ো ?
এই কথা শুনে বেশ জোরে জোরে হাসল নিশা নিশা হাসির মুগ্ধ হয়ে দেখছে সৌরভ। সৌরভ এভাবে তাকিয়ে থাকা নিশার হাসি থামায় । তারপর দুজনে বেশ কিছু সময় নীরব থাকে হঠাৎ সৌরভ বলে ওঠে …

সঞ্জয় এখনো এলো না যে!!
উত্তর এ আলতো হাসে নিশা ! তারপর বলে…
ওর মত স্বামী পাওয়ার চলে এসো ভাগ্য আমাদের দুজনকে প্রাইভেসি দিচ্ছেন। নিজের বউকে তার পুরনো ভালোবাসার মানুষের সাথে এইভাবে প্রাইভেসি দিতে দেখেছেন কাউকে?

আসলে অবিশ্বাস্য এই ব্যাপার ।
ও এমন এক বুক কষ্ট নিয়ে ও হাসিখুশি থাকতে পারে পরের বেলায় 16 আনা ও নিজের বেলায় 4 আনা ।
বাহ ! তবে আজ উঠি আমি। ভালো থেকো।

অসমাপ্ত ভালোবাসা

তুমিও ভালো থেকো ।
এই বলে চলে যাই সৌরভ নিজের ভালোবাসাকে নিজের মাঝে নিয়ে তার এই লুকোনো ভালোবাসাটা না হয় লুকানো থাক।
তবে সে দুঃখের মাঝেও তৃপ্তি বোধ করছে কারণ তার নিজের ভালবাসার মানুষকে ভালো আছে।

এখনো সৌরভেররও অপেক্ষা তার জীবন আলোকিত করার প্রদীপের ।
এই যে মিস্টার হাজবেন্ড ।
এই বলে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে সঞ্জয় কে ।
আরে তুমি কি করে জানলে যে আমি আজকে ছাদে আছি ।

তোমাকে আমার থেকে ভালো আর কে জানে বল।
উত্তরে আলতো হেসে সঞ্জয় জড়িয়ে নিল নিশাকে নিজের মাঝে । নিশা অনুভব করলো ওর পিঠে তরল জাতীয় কিছু ।

সাথে সাথে সঞ্জয়কে নিজের কাছ থেকে সরিয়ে দেখে সঞ্জয়ের চোখে জল । অস্থির হয়ে পড়ে নিশা বারবার তাকে জিজ্ঞেস করতে থাকে কি হয়েছে । উত্তর এ সঞ্জয় বলে …,
আমি ভেবেছিলাম আজ হয়তো হারিয়ে ফেলবো তোমাকে ।
আপনি কি ভেবে ছিলেন পুরোনো প্রেমিকের সঙ্গে ভেগে যাব ।
হু

এহ ! এতো কিউট বর কে রেখে অন্য কারো সাথে পালাবো? পাগল নাকি আমি।
সঞ্জয় তখনও মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিল হঠাৎ নিশা সঞ্জয়কে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো ।
আমার সাথে তোমার আগে কেন দেখা হয়নি আমি শুধুই তোমার মৃত্যুর আগে পর্যন্ত । ( অসমাপ্ত ভালোবাসা )

কথাটি যেনো সঞ্জয়ের বুকে গিয়ে বাধল আলতো হেসে সঞ্জয় ও নীশাকে জড়িয়ে নিল নিজের মাঝে ।

আমি তোমাকে ভালোবাসি ।
আমি তোমার থেকেও বেশি ভালোবাসি ।

গল্প টি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন

Leave a Comment