বাসর রাতের রোমান্টিক গল্প

বাসর রাতের রোমান্টিক গল্প

 বাড়ির মেঝেতে চেয়ার পেতে আমি বসে আছি ।  এত রাতে ঠান্ডার মধ্যে খোলা আকাশের নিচে তিনজনে বসে বসে গল্প করছি । তিনজন বলতে একজন আমার দুলাভাই আর একজন আমার বউয়ের দুলাভাই । ওরা দুজনে গল্প করছে আর আমি বসে বসে শুনছি তা ছাড়া আমার কিছু করার নাই বাধ্য হয়ে তাদের গল্প শুনতে হচ্ছে এছাড়া আমার কাছে কোন অপশনও নেই ।ৎএই সময় আমার লেপের নিচে শুয়ে থাকার কথা বউ না থাকায় কোলবালিশ জড়িয়ে ঘুমানোর কথা। 

কখনো আবার কোলবালিশ নিচে পড়ে গেলে ট্রেনে আবার নিজের কাছে জড়িয়ে নাও কিন্তু আজ সেই রকম কিছুই করতে হবে না কারণ কোলবালিশ |  কোলবালিশ এর পরিবর্তে এসেছে আমার টুকটুকে বউ । তাকে আনার পর আমি আরেক ঝামেলায় পড়েছি গো। সবাই নতুন বউ দেখার জন্য আমার ঘর জুড়ে বসে আমার ঘর ভর্তি লোক। আমি বেচারা আর কি করবো বলুন তাই বাইরে বসে ওদের দুজনের গল্প শুনছি । হঠাৎ আমার দুলাভাই বলল শালাবাবু তোমার কী ঠান্ডা লাগছে ?

রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প বাসর রাতের রোমান্টিক গল্প,রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প,রোমান্টিক প্রেমের গল্প,রোমান্টিক গল্প,ভালোবাসার রাত,রোমান্টিক বাসর রাত,বাসর রাতের রোমান্টিক গল্প,ভালোবাসার রোমান্টিক গল্প,রোমান্টিক গল্প বিয়ে,বাসর রাতের রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প,রোমান্টিক ভালোবাসার ছোট গল্প,বাংলা রোমান্টিক গল্প,রোমান্টিক বাসর রাত,
বাসর রাতের রোমান্টিক গল্প


রোমান্টিক গল্প

দুলাভাইয়ের মুখের দিকে তাকাতেই বুঝলাম তিনি আমার সঙ্গে অনেক মজা করছেন সুযোগ পেলে যা হয় আর কি ? আমি তাকে দেখে মুচকি হাসার চেষ্টা করলাম আর বললাম না ঠিক আছে। 

তিনি বললেন আর তো কিছুক্ষণ তারপরে ঠান্ডা লাগার বদলে দেখবে আপনা-আপনি গরম লাগবে । চুপ করে বসে থাকলাম উনারা দুজনে বলে হাসতে থাকলো। 

পাশের জন্য বেশ মজা পাচ্ছে মনে হয় উনি নীলার দুলাভাই । উনিও মজা করতে পারেন সেটা তাকে দেখেই বোঝা গেল একটু আগে একবার রুমে গিয়েছিলাম ঘরে ঢুকতেই আমার ছোট ভাই বলল এই রুমে এত ঘনঘন আসছিস কেন তোর বউকে অন্য কেউ নিয়ে যাবে নাকি।  এ তো দেখছি ভাই আর ও আরেক বিপদ কি করি । আমি এসেছিলাম লুঙ্গি নিতে এই বিয়ের পোশাকে কতক্ষণ থাকা যায় বলুন ছোট ভাইয়ের কথা শুনে এমনিতেই বেরিয়ে এলাম ঘর থেকে।

দুলাভাই উঠে দাঁড়ালেন আমার দিকে তাকিয়ে বললেন চলো এবার ঘরে চলো অনেক রাত হল।  এতক্ষণে তবে বুঝতে পারল আমার মনের কথাটা। দুলাভাই উঠে আমার ঘরে গিয়ে সবাইকে বের হতে বলল আর নীলার দুলাভাই আমার পাশে দাড়িয়ে বলল শোনো তোমার নার্ভাস হওয়ার কিছু নেই ।  প্রথম প্রথম একটু নার্ভাস লাগে পরে আপনা আপনি ঠিক হয়ে যাবে।

লোকটার দিকে আড় চোখে তাকালাম লোকটার মুখে দুষ্টুমির হাসি মিশে আছে উনার কথায় মনে হয় উনি বেশ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন ব্যক্তি । 

রোমান্টিক মিলনের গল্প

 মনে মনে প্রশ্ন জাগলো আপনি কয়বার বাসর রাতে ঢুকেছেন । জিজ্ঞেস করতে গিয়েও থেমে গেলাম ।  বাসর ঘর থেকে বেরিয়ে গেল আমি রুমের সামনে দাঁড়িয়ে আছি । নীলার দুলাভাই আমাকে আবার বলল – তুমি দেখো একটু ওনার নার্ভাস হবে না যাও।  আমি ভিতরে ঢুকলাম দরজাটা লাগিয়ে দিতে দিতে উনার কথা ভাবছি উনি আমাকে নার্ভাস হওয়ার কথা কেন বললেন । আমাকে কি দেখে সত্যি নারভাস মনে হচ্ছে আর আমি নার্ভাস হবই বা কেন ? বাসরঘর তো এটা সাধারণ ঘটনা সবারই জীবনে একবার না একবার এই দিনটাকে আর তাছাড়া এখনকার ডিজিটাল যুগে বাংলা সিনেমায়  আমরা কত দেখেছি । 

 আমি আমার বউয়ের কাছে পারমিশন চাইছিলাম বসতে পারি?

 কথাটা বলতেই আমি থমকে গেলাম । কথাটা আমি কেন বললাম ।  উনি তো অপরিচিত কেউ নয় ।  আমার ঘরে আমি বসতে অনুমতি নিতে হবে কেন! এর আগে কখনো কারো অনুমতি লাগে নি তবে আজ নীলার মুখের দিকে তাকালাম । ঘোমটা কিছুটা নেমে গিয়েছে মুখের মধ্যে মনে হচ্ছিল একটা রাগের ভাব আমার কথায় রাগ করেছে সে মনে হয়। 

 নীলা বলল বস ।

 চুপ করে নিল ওর পাশে বসলাম মনে মনে ভেবেছিলাম আমাকে আপনি করে বলবে তারপর আমি তাকে কাছে টেনে নিয়ে বলবো,,,, আপনি করে নয় তুমি করে বল

 আর নীলা বলবে আমাকে না লজ্জা লাগে । 

রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প কাহিনী

 আমি তোমার স্বামী লজ্জা কিসের আমার কাছে।

 কিন্তু সেই রকম কিছুই হলো না তার মধ্যে আমার গরম লাগছে লেগেছে এই শীতের ভিতর ঠান্ডা লাগার বদলে গরম লাগার ব্যাপারটা অস্বাভাবিক মনে হয়।  নার্ভাস হওয়ার কারণে এমনটা লাগছে মনে হয়  । দুলাভাইয়ের কোথায় তখন কোন পাত্তা দেয়নি তবে তার কথায় যুক্তি আছে দেখছি মনে হয়। 

 পাশে ডাইনিং টেবিলের ওপর চোখ থেকে পানি ঢেলে পানি খেলাম পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলাম কিন্তু কিছুতেই পারছিনা আমার বউয়ের সাথে কিভাবে কথা বলব তারও কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিনা মেয়েটির নাম জিজ্ঞাসা করার ছলে পাশে বসব । তার নাম আগেই জানি তাই আবার জিজ্ঞেস করাটা বোকামি।  মেয়েটির নাম আপনারাতো জানেনই নিলা । 

 বিয়ের আগে আমরা কত বাব ফোনে কথা ও বলেছি।  তবে সেভাবে মেশা হয়নি । ওর পাশে বসতেই বলল… তোমাকে কি নার্ভাস লাগছে?

 আমার যে নার্ভাস লাগছে সেটা কিভাবে বুঝল তবে কি সে আমার মনের খবর জানে!

 তারপর সে আমাকে এক গ্লাস পানি দিল আর বলল এই নাও পানি খাও ।

 নীলার হাত থেকে গ্লাস নিয়ে আরেক গ্লাস পানি খেলাম ।  নতুন বউয়ের দেওয়া জিনিস না খেলে কেমন হয় বলুনতো। আমি ওর দিকে এক নজরে তাকিয়ে রইলাম।  তাকে ভালো করে দেখার চেষ্টা করছিলাম । টানা টানা দু চোখে কাজল মাখিয়ে নীলাকে আরো বেশী সুন্দর লাগছে আমি তার দিক থেকে চোখ সরাতে পারছি না আর ওই চোখের মাঝে নিজেকে হারাতে দ্বিধা থাকবে মুখের দিকে তাকিয়ে আছি কিছুক্ষণ ধরে ।  ওর দিকে তাকিয়ে কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি তাকে দেখে কি যে বলব ভাবতেই পারছিনা। 

রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প

 এতক্ষণে আমার নার্ভাস ভাবটা কেটে গিয়েছে এক মুহূর্তে মেয়েটিকে খুব আপনাপন লাগছে । নীলা আমার দিকে মুচকি হেসে বলল,….

 এভাবে থাকবে নাকি চেঞ্জ করে  আসবেন ?

 আমি নিলাকে বললাম তুমি চেঞ্জ করে নাও আমি পরে করছি।

 ওকে ।

 আমি বিছানায় বসে আছি ঘর টা সুন্দর করে সাজিয়েছে এজন্য আমার বোনেদের অবদান বেশি একমাত্র দাদার বিয়েতে তারা তাদের খুশি থাকার মত ঘর সাজিয়ে অনেক টাকা আদায় করেছে তারা আমার কাছ থেকে। কিছুক্ষণের মধ্যে নীলা ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এলো ।

 নীলা দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে থাকলাম ।  আমার হাসি দেখে বুঝতে পেরেছে বোধহয় তাই কিছুটা লজ্জা পেয়ে মাথা নামিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে ।  আজ প্রথম শাড়ি পরেছে কিন্তু শাড়ির কুচি ঠিক হয়নি তাই  আমার হাসি থামানোর জন্য সে বলল…

 এর আগে আমি কোনদিন শাড়ি পড়িনি কিভাবে কুচি দেয় সেটাও পারিনা।  নিজে থেকে একদিন সরস্বতী পুজোয় আমার দিদি আমাকে শাড়ি পরিয়ে ছিল তারপরে আমি কোনদিন শাড়ি পড়িনি কারন সে সরস্বতী পুজোয় একটা ছেলে আমাকে খুব বিরক্ত করছিল।

রোমান্টিক প্রেমের গল্প        

 তাতে কোনো সমস্যা নাই আমি এখন তোমার শাড়ি ঠিক করে দিচ্ছি ।

তুমি ।

 কেন আমাকে কি তোমার থেকে অকর্মার ঢেঁকি মনে হয় না মনে হয় আমি পারবো না।

 তেমন না তবে তুমি। 

 এখন আগে তুমি এসো ঠিক করে দিই ।

 নীলার শাড়ির কুচি ঠিক করে দিলাম আমার সুন্দর করে শাড়ি পরানো দেখে সে অবাক একটা ছেলে হয়ে এত সুন্দর শাড়ি পরাতে পারি ! সে বলল …

 তুমি এতো ভালো শাড়ি পড়ানো কোথা থেকে শিখলে ? এর আগে কয়জনকে শাড়ির কুচি ঠিক করে দিয়েছো ! হুম । 

 কোনদিন কোন মেয়েকে পড়ায় নি তবে ছেলে কে পড়িয়েছি।

 মানে। 

 আমরা যখন কলেজে পড়তাম তখন একটা নাটক করেছিলাম তখন আমার এক বন্ধুকে সাজানোর জন্য শিখেছিলাম । 

 এবার থেকে তাহলে তুমি আমার শাড়ি ঠিক করে দেবে তো।

 আচ্ছা । 

 তবে পড়াতে গিয়ে কিন্তু দুষ্টুমি করা চলবে না। 

রোমান্টিক গল্প বিয়ে

 নীলার মুখে দুস্টুমির হাসি । আমি ওর হাসি দেখতে দেখতে ওয়াশরুমে চেঞ্জ করতে ঢুকলাম।  ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে দেখলাম চুপ করে বিছানার উপর বসে আছে।  দুজনের  কারো মাঝেই জয়তা নেই ।  এই মনে হয় আমরা জনম জনম ধরে দুজন দুজনাকে চিনে আমিও বিছানায় উঠে বসলাম সে আমার দিকে তাকিয়ে আমাকে বলল…

 আমার ঘুম পাচ্ছে কিন্তু । 

 ঘুমাবে আচ্ছা ঘুমাও । 

 আমার কথায় নীলার কিছুটা মন খারাপ হয়ে গেল সে বুঝতে পেরেছে যে আমি তার সাথে মজা করছি।  সেভাবে নি আমি এত সহজে ঘুমাতে বলবো আমি চাইনা সে ঘুমাতো তবুও বললাম কোল বালিশের মধ্যে দিয়ে শুয়ে পড়ল এমন কাজ দেখে আমি কিছুটা অবাক হলাম । বিয়ের পরেও আমাকে কোলবালিশ নিয়ে ঘুমাতে হবে । ওর দিকে তাকিয়ে বললাম…

 কোলবালিশটা তুমি কেন দিলে?

 সে অভিমানী সুরে আমাকে বলল

 তুমি যাতে আমাকে একটা টাচ করতে না পারো ।

 আমি একেবারে চুপ হয়ে গেলাম এখনই অভিমান করে বসে আছে মেয়ে তো বেশ অভিমানী বোঝাই যায় অভিমান ভাঙ্গানোর দায়িত্ব তো আমাকে নিতে হবে সারা জীবন কোলবালিশ নিয়ে অন্য পাশে রাখলাম।  নীলার পাশে আমিও শুয়ে পড়লাম হাতটা ধরে কাছে টেনে নিলাম।  চোখের মাঝে লজ্জা দেখা যাচ্ছে লজ্জামাখা চোখে সে বলল….

 কাছে টেনেছে ঠিক আছে কিন্তু জড়িয়ে ধরবে না।

রোমান্টিক লাভ স্টোরি গল্প

 কিছু নিজেদের মাঝে কিছু গোপন কথা জড়িয়ে থাকে । সে আমাকে জড়িয়ে ধরতে বলেছে । আমি কাছে টেনে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম ঠান্ডার জন্য লেপটা গায়ের উপর ছড়িয়ে দিলাম । রাত আড়াইটা বাজে মনে হয় । আমি চুপ করে শুয়ে আছি চোখে ঘুম নেই । নীলার ও চোখে এখনও ঘুম নেই । আমার বুকে মাথা রেখে মনের কথাগুলো বলে যাচ্ছে আমি চুপ করে ওকে দেখছি ওর কথাগুলো মন দিয়ে শুনছি।

 এমন একটা মেয়ে প্রেমে না পড়লে নয় নিজের অজান্তে অনেক বড্ড বেশি ভালো খেলেছি মেয়েটাকে এখন দুজনের কারো আর ঠান্ডা লাগছে না প্রেমের উষ্ণতায় মিশে যাচ্ছি দুজনে। 

 

আশা করি বাসর রাতের রোমান্টিক গল্পটি আপনাদের ভালো লেগেছে। 

গল্প টি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন

1 thought on “বাসর রাতের রোমান্টিক গল্প”

Leave a Comment