মেয়েদের বাস্তব জীবনের গল্প – এক শিক্ষনীয় গল্প 2022

আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে মেয়েদের বাস্তব জীবনের গল্প 2022 . তো বন্ধুরা এই পোস্ট টি আপনারা জানতে পারবেন মেয়েদের জীবন অনেক কষ্টের। মেয়েদের সুখ কোথায় আছে কেউ জানেনা। তো বন্ধুরা এটি একটি বাস্তব জীবনের কষ্টের গল্প যেটা আপনারা জানতে পারবেন যে আমরা মানুষের উপরে যা দেখি তা সম্পূর্ণ আলাদা । আমাদের মাঝে অনেক বাস্তব জীবনের কিছু গল্প আছে যা সত্যি বড় বেদনাদায়ক হয় ।

বাস্তব বড় কঠিন হয় বন্ধুরা তো আপনাদের কাছে এই অনুরোধ যে এই শিক্ষনীয় গল্প শেষ পর্যন্ত দেখবেন আর নিচে কমেন্ট করে জানাবেন ।

মেয়েদের বাস্তব জীবনের গল্প

বাস্তব জীবনের গল্প, বাস্তব জীবনের কষ্টের গল্প, বাস্তব জীবনের কিছু গল্প, মেয়ে, শিক্ষনীয় গল্প শিক্ষনীয় মজার গল্প,
বাস্তব জীবনের গল্প

আমি সবেমাত্র শুয়েছি, রাত আর কত হবে আনুমানিক সাড়ে 11 টা কত দরজায় ঠক আওয়াজ হচ্ছে আমি দরজা খুলে দেখি লতা ভাবী ‌এসেছে । মুখটা বেশ মলিন কিন্তু আমি তাকে বললাম….

কি হয়েছে ভাবি ? আপনি এত অস্থির লাগছে কেন ? আর এত রাতে বা কি করতে আমার কাছে এসেছে ?
ভাই একটু কষ্ট করে ফার্মেসি যেতে পারবেন ছোট বাচ্চাটার ভীষণ জ্বর ।

একপাতা জ্বরের ট্যাবলেট এনে দেন ।
ঠিক আছে ভাবি আমি যাচ্ছি ! কিন্তু রফিক ভাইয়া কই ? সে কি বাসায় নাই ?
সে বাসায় আছে সে অন্য রুমে শুয়ে আছে ‌। এখন তাকে ডাকা যাবে না । ডাকলে ভীষণ রাগ করবে । ( মেয়েদের বাস্তব জীবনের গল্প )


তিনি কি বাচ্চার অসুস্থ থাকার ব্যাপার জানে ।
জি ভাই এই জন্য তো অন্য রুমে গিয়ে শুয়েছেন তিনি বাচ্চাদের ঝামেলা একদম পছন্দ করেনা ।


আমি বেশ ভাবীর কথা শুনে অবাক হলাম আর কথা না বাড়িয়ে একটা গেঞ্জি গায়ে দিয়ে নিচে নেমে এলাম । জ্বরের ট্যাবলেট নিয়ে এসে বাসায় এসে দেখি ভাবী বাচ্চার শরীর ভেজা গামছা দিয়ে মুছে দিচ্ছেন । বড় বাচ্চাটা উদ্বিগ্ন হয়ে বসে আছে । রাফিক ভাইয়া একজন ভালো মানুষ । আমার দেখা সেরা দের মধ্যে একজন ।


অল্প বয়সী হজ করেছে দিল । দিল দরিয়া । টাকা-পয়সার ভালো আছে । সে অনেক টাকা পয়সা দান করেছেন । এখন উত্তরাধিকারী সূত্রে সম্পত্তি এর মালিক তিনি । সারাদিন ব্যবসায়ী সময় দিয়ে যেটুকু সময় পাই। বেশিরভাগ সময় মসজিদে পড়ে থাকেন । এটাই দেখি আছর আর মাগরিব নামাজের পর মসজিদে মুসলিমদের নিয়ে বসেন । ( মেয়েদের বাস্তব জীবনের গল্প )


তিনি হাদিস, কোরআন বয়ান করেন আমার দেখা চমৎকার একজন মানুষ রফিক ভাইয়া । তিনি কারও সাতেপাঁচে থাকেন না । আমরা তাকে আদর্শ হিসেবে মানি । এ বয়সে তিনি নিজের উদ্যোগে চমৎকার একটা মসজিদ বানিয়েছেন । এলাকার লোকজন তাকে সমীহ চোখে রাখে । আমরাও তাকে ভীষণ শ্রদ্ধা করি ।

বাস্তব জীবনের কষ্টের গল্প

কষ্টের গল্প, বাস্তব জীবনের কষ্টের গল্প, বিবাহিত জীবনের কষ্টের গল্প, জীবন কাহিনী কষ্টের, খুব কষ্টের ভালোবাসার গল্প, ভালোবাসার গল্প কষ্টের, কষ্টের প্রেমের গল্প, কষ্টের লেখা গল্প, কষ্টের গল্প কাহিনী, জীবনের কষ্টের গল্প, কষ্ট জীবনের গল্প, কষ্টের কাহিনী, প্রবাসীদের কষ্টের গল্প, অনেক কষ্টের প্রেমের গল্প, কষ্টের গল্প ভালোবাসার, প্রেমের কষ্টের গল্প,
বাস্তব জীবনের কষ্টের গল্প


এলাকায় কারো টাকার অভাবে বিয়ে হচ্ছে না, কারো হয়তো ঘর নাই ,কারন টাকার অভাবে বিদেশ যেতে পারছে না । সব জায়গায় রফিক ভাইয়া । তিনি যথাসাধ্য লোকজনকে সাথে নিয়ে সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করেন সে আমার ফুপাতো ভাই । আমার ফুফা ও একজন ভালো মহিলা ছিলেন ।

তিনি শেষ বয়সে বেশিরভাগ বয়সী মসজিদে কাটিয়ে দিতেন । তিনি মৃত্যুর আগে ভালো সম্পত্তি রেখে যান । তিনি এতই ভালো মানুষ ছিলেন যে তার জানাজায় দশ গ্রামের মানুষ উপস্থিত হয়েছিল ‌! মৃত্যুর পর তার জন্য কেঁদেছিল । রফিক ভাইয়ের বড় আরেকজন ভাই আছে । ( মেয়েদের বাস্তব জীবনের গল্প )


আশরাফ ভাই। মৃত্যুর আগে ফুফা দুই ভাইকে দুই ভাগের সম্পত্তি ভাগ করে দিয়ে যান । রফিক ভাই যেমন পারহেজগার। তেমনি আশরাফ ভাই একটা ভাগাবন্ড বিয়ের আগেই মদ-জুয়া পান-সিগারেট যা তার নিত্যসঙ্গী রফিক ভাইয়া তার সম্পত্তি ধরে রেখেছেন এবং আশরাফ ভাইয়া অনেক সম্পত্তি নষ্ট করেছেন ।


মৃত্যুর আগে সোফা ভাবে আশরাফ ভাইয়ের বউ নিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক চিন্তা করেছেন তারা । আর যে সেই আশরাফ ভাই যখনই নিজেকে বিয়ে করে ফেললো ফুফা ফুফু হবে ভীষণ কষ্ট পেয়েছিল। । তাদেরকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে অন্যত্র আলাদা একটা বাড়ি করে দিয়েছিল । ( মেয়েদের বাস্তব জীবনের গল্প )


মৃত্যুর আগে পর্যন্ত পিসি আশরাফ ভাইয়ের বাসায় যায়নি রফিক ভাইয়ের সংসারে থেকে গেছেন তিনি । আমরা ধরে নিলাম আশরাফ ভাই যে মেয়েকে বিয়ে করছে তার কপালে অনেক দুঃখ আছে এমন একজন ভাগাবন্ড । কে বিয়ে করেছে বলে আমরা সেই মেয়ের ভবিষ্যত নিয়ে বেশ সংকোচিত হলাম ।

2021 এর শেষ দেখে আমি একটা রাজনৈতিক ঝামেলায় পড়লাম আমাকে আশ্রয় নিতে হলো বাসায় রফিক ভাইয়ের বাসায় অভাবে প্রায় একই সময়ে মারা গেছেন । মাত্র দুই মাস হয়েছে তারা মারা গেছেন । ভাইয়ের বউ লতা ভাবি দেখতেও একজন চমৎকার মানুষ তিনি বেশ শান্ত শিষ্ট । বিয়ের পর যখন গিয়েছিলাম বেশ খাতির জত্ন করেছেন তিনি । ( বাস্তব জীবনের গল্প )

তাদের একটা ছেলে এবং একটা মেয়ে নিয়ে রফিক ভাইয়ের সংসার । মেয়ের বয়স চার জন ছেলের বয়স দুই আর একজন কাজের মেয়ে আছেন । তাদের বাচ্চা গুলো খুব ফুটফুটে দেখলেই। তাদের কে আদর করতে ইচ্ছে করে । চেহারা ভারী মিষ্টি লতা রফিক ভাইয়া দুজনে সুন্দর । ওরা বাবা মায়ের সুরৎ পেয়েছে ।
আমি প্রায় এক মাস ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম । লতা ভাবী আমার সামনে কমই আসতেন । দেখা হয়ে গেলে টুকটাক কথা হতো যখনই দেখতাম, মুখটা বেশ মলিন হাসি খুশি নাই । মনে হতো শরীরে আগে থেকে কোন প্রাণ নেই । অথচ বিয়ের সময় তিনি কত হাসিখুসি দেখেছি। লতা ভাবী বিয়ের পরে দুই একবার এই বাসায় এসেছিল ‌ ।

বাস্তব জীবনের কিছু গল্প

তখন আমি ভাবীকে বেশ সুখী সুখী দেখেছিলাম, এই মেয়েটার হঠাৎ কি যে হলো কে জানে । সকালে বা রাতে আমি আর রফিক ভাইয়ের একসাথে খেয়ে বসে খেতে বসতাম । অন্যরা পরে খাওয়া-দাওয়া করত । সকালে নাস্তা খেয়ে আমরা হাঁটতে বের হতাম । ভাই তার অফিসে চলে যেত দুপুরবেলা কাজের মেয়ে এসে ভাত রান্না করে যেত ।


আমি একা একা চুপচাপ খেতাম । আমাদের যৌথ পরিবার ! বাসায় সবাই মিলে হৈ চৈ করে খেতাম ‌। এখানে একা একা খেতে আমার ভালো লাগেনা লতা ভাবীর চুপচাপ থাকতেন । মনে হতো তিনি যেন এ বাসায় নেই ‌। বাচ্চাগুলো আমার শান্তশিষ্ট মনে হতো । ( বাস্তব জীবনের কিছু গল্প )


আমার কোন কাজ ছিল না বলে সকালে নাস্তার পরে রাস্তায় ঘুরে ঘুরি করতাম । না হয় শুয়ে-বসে বই পড়তাম । অনেক সময় বাচ্চাদের নিয়ে খেলাধুলা করতাম। গুনা হবে বলে বাসায় কোন টিভি ছিল না । তবে নিয়মিত খাবারের কাগজ রাখতেন । রফিক ভাই সকালের নাস্তা খেতে খেতে খবর পড়তেন ।


আমি তখন মনে মনে ভাবতাম এমন একজন পারহেজগার । লতা ভাবি ভীষণ সুখেই আছেন । এমন উদারতার মনের ভালো স্বামী কয়টা মেয়ের ভাগ্যে থাকে‌ । দূর থেকে আমরা এই পরিবার থাকে সুখী পরিবার হিসেবে জানতাম । মনে মনে এমন একটা পরিবার নিজের জন্য অনেক কল্পনা করতাম । ( বাস্তব জীবনের কিছু গল্প )


কিছুদিন পরে আমার ভুলটা ভাঙ্গে । অবাক হয়ে লক্ষ্য লক্ষ্য করলাম কোন এক বিচিত্র কারণে লতা ভাবি ভাইয়াকে ভীষণ ভয় পেতেন । ভাই কোন অর্ডার করলে দৌড়ে গিয়ে তা পালন করতেন । তাদেরকে কখনো ঝগড়া করতে দেখি নাই । রফিক উচ্চস্বরে কখনো কথা বলতে শুনিনি ।
তার পরেও ভাবি কেন ভয় পায় কে জানে ! নাস্তা শেষ করে চা খেতে খেতে বললাম….
রফিক ভাই, রাতে তো আপনার ছেলের ভীষণ জ্বর ছিল এখন কি কমেছে ?

জ্বর ছিল তাই নাকি?
কেন আপনি কি জানেন না?
তিনি উত্তর দিলেন না । ভিতরের রুমে তখন তিনি ঢুকে গেলেন। আমি বেশ অবাক হলাম । ভাবি কি তাকে কিছুই বলে নাই ? আমি আরেকটা বিষয় বেশ অবাক হলাম বাচ্চারা তাদের বাবাকে ভীষণ ভয় পায় । তারা কখনও তাদের বাবাকে সাথে খেলাধুলা করে না ! অথচ আমাকে দেখলে আংকেল আংকেল বলে দৌড়ে আসে । ( বাস্তব জীবনের কিছু গল্প )


এই এই বিষয়টা নিয়ে আমার বেশ চিন্তা হয় । লতা ভাবী দেখতেও বেশ সুন্দরী । ভাই কি তাহলে ভাবিকে নিয়ে বেশি সুখী নয় । এমন একজন সংশ্লিষ্ট বউ পাওয়া যে কোন পুরুষের জন্য ভাগ্যের ব্যাপার । ভাবি কে দেখে আমি মনে মনে অনেকদিন বলেছে হে আল্লাহ । তুমি লতা ভাবীর মত সন্তুষ্ট আমাকেও একটা বউ দিও ‌।


অপরদিকে আরেকটা বিষয়ে আমাকে বেশ ভাবায় মাঝখানে যাবৎ এ বাড়িতে এসেছি ভাবিদের বাড়িতে কাউকে এই বাসায় আসতে দেখি নি । অথচ ভাবিদের বাসা বেশি দুরে নয় । অনেকেই সাথে রাস্তায় আমার দেখা হয় একদিন মাঝরাতে ঘুম আসছিল না, আমি বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম ।

আমার মনে হল ভাবী রুম থেকে কান্নার আওয়াজ আসছে ‌, ভাই আস্তে আস্তে করে কি যেন বলছে আর ধমকাচ্ছে বারান্দা থেকে ভালো করে কান পেতে শুনতে লাগলাম, ভাবি বলছেন …..
দোহাই আপনার, এইসব করিয়েন না । বাচ্চাগো ভবিষ্যতে কি হইব ? মানুষকে কি বলবো ? সমাজে মুখ দেখাবো কি করে ? ( বাস্তব জীবনের গল্প )


বেয়াক্কেল একটা মেয়ে মানুষ । আজকাল এইসব কোন ব্যাপারই ‍? তাছাড়া আমি তো অন্যায় কিছু করছি না ।
দোহাই লাগে আপনার পায়ে পড়ি এসব করবেন না ।
চুপ, একদম চুপ ‌। বেশি বাড়াবাড়ি করবা না ।


এইটুকু শোনার পর আমি বারান্দা থেকে চলে এলাম ‌। লুকিয়ে অন্য স্বামী-স্ত্রী কথা শোনা আমার ঠিক হবে না । তাছাড়া আমি এখানে আশ্রিত একজন মানুষ। আমি বুঝলাম প্রদীপের নিচে হয়তো কোনো অন্ধকার লুকিয়ে আছে। কিন্তু এটা বুঝলাম না ভাইয়া আসলে কি বলতে চাইছে ‌। ভাবী কেন কান্নাকাটি করছে । আর রফিক ভাইয়ের কি চরিত্রহীন ? ( বাস্তব জীবনের গল্প )


তাই বা কেমন করে হয় ? ছোটবেলা থেকেই রফিক ভাইয়ের তার আদর্শ চরিত্র জন্য শ্রদ্ধা করে এসেছি । তাহলে বিষয়টা কেন জানিনা আমার মাথায় গেঁথে রইল । অথচ, রফিক ভাই ও লতা ভাবিকে বাইরে থেকে দেখলে বুঝার উপায় নাই যে তাদের মধ্যে কোন গন্ডগোল চলছে । বাইরে এরা একেবারে স্বাভাবিক ।
দুইদিন পর সকালবেলা হাঁটতে পেরেছে রাস্তায় আশরাফ ভাইয়ের সঙ্গে দেখা ।

আমি আশরাফ ভাইকে একেবারে পছন্দ করতাম না তার ভাগাবন্ড স্বভাবের জন্য । যারা মদ জুয়া নিয়ে পড়ে থাকেন তাদের কে আমার মানুষ বলে মনে হয় না মতি ভাইকে নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে করতেই খুব পিসি পিসা মারা গেছেন ।
তারা মারা গেছেন হার্ট অ্যাটাক করে আশরাফ ভাই আমাকে জোর করে ধরে তার বাসায় নিয়ে গেল গেলেন । অনেকদিন পর আমাকে দেখে ভাবি ও তার তিন বাচ্চা বেশ খুশি হলো । দুপুর বেলা ভালো খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করা হলো । ভাবির রান্না খুবই সুন্দর । ( বাস্তব জীবনের গল্প )


যদিও তিনি লতা ভাবীর মত অতটা সুন্দরী নয় । গায়ের রং কিছুটা ময়লা কিন্তু তার চেহারা বেশ মায়া কায়া । তিনি নিজ হাতে বেড়ে আমাকে খাওয়ালেন। ভাবির ব্যবহার আমাকে বেশ মুগ্ধ করলো । বেশ হাসিখুশি মনে হল অথচ আশরাফ ভাইয়ের বউকে নিয়ে আমরা কত চিন্তা করেছি।


বিকেলে আশরাফ ভাই বেরিয়ে গেছেন । বাচ্চারা শিক্ষকের কাছে পড়তে বসেছেন ! ভাবি এলেন আমার সাথে গল্প করতে তখন আমি বললাম…
আপনি কেমন আছেন ভাবী?


আলহামদুলিল্লাহ ! ভালো আছি ভাই আপনার ভাইয়াও অনেক ভালো আছে?
আমার মনে হলো, ভাবীর শরীর থেকে চোখ উপচে পড়ছে ! আমি জিজ্ঞাসা দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালাম । তখন ভাবি বললেন…
আপনার ভাইয়ের যত বদভ্যাস ছিল বিয়ের পর সব ছেড়ে দিয়েছে । সে মদ দূরে থাক এখন সিগারেট পর্যন্ত ছুয়ে দেখ না , জুয়া খেলে না । নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে । প্রায় তার মা বাবার কবর জিয়ারত করতে যায় । সন্ধ্যার পর বাচ্চাদের নিয়ে সময় কাটাই । বাচ্চারা তো বাবা বলতে অজ্ঞান । ( বাস্তব জীবনের গল্প )


সত্যি এটা কি করে সম্ভব হল ভাবী?
সবই আল্লাহর ইচ্ছা ভাই । আমার ভাগ্য ভালো এমন একজন আমি স্বামী পেয়েছি ।
আমার মনে হল ভাইয়ের পরিবর্তনে ভাবির অনেক হাত আছে । ভাই এমনি এমনি পরিবর্তন হয় নাই । মনে মনে ভাবি কে একটা স্যালুট জানালাম আর আমি বললাম….


রফিক ভাইদের বাড়িতে আপনারা যান না ।
না ভাই। । আগে যেতাম, এখন আর যায় না ।
কেন ভাবি কিছু কি হয়েছে তাদের সাথে ।
আপনিতো ওই বাসাতেই থাকছেন, কিছু শোনেন নি।
নাতো ?


আর বলেন না ভাই রফিক ভাইকে শয়তানে পেয়েছে । সে একটা মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছে । সেই মেয়েকে বিয়ে করতে চাই সম্ভবত আগামী মাসে বিয়ে । গত সপ্তাহে লতা এসেছিল মেয়েটা কেঁদে কেঁদে একেবারে শেষ হয়ে গেছে ।


আপনি বলেন কিভাবে লতা ভাবীর মত এমন সুন্দরী বউ থাকতেও রফিক ভাইয়া এমন কেন কাজ করবে ?
জানিনা রে ভাই দুনিয়া কত রকমের মানুষ আছে । পুরুষ মানুষের মন বোঝা দায় ।

শিক্ষনীয় গল্প

শিক্ষনীয় গল্প, শিক্ষনীয় মজার গল্প, হাসির শিক্ষনীয় গল্প, সুন্দর শিক্ষনীয় গল্প, শিক্ষনীয় বড় গল্প, শিক্ষনীয় ঘটনা, শিক্ষনীয় গল্প বাংলা, বাচ্চাদের শিক্ষনীয় গল্প, বাংলা শিক্ষনীয় গল্প, শিক্ষনীয় ইসলামিক গল্প, ইসলামিক শিক্ষনীয় ঘটনা, বাংলা ইসলামিক শিক্ষনীয় গল্প,
শিক্ষনীয় গল্প


আমি তার কথা শুনে কিছুক্ষণ স্তম্ভিত হয়ে বসে রইলাম । এই আমি কি শুনছি রফিক ভাইয়ের মতো চমৎকার একজন মানুষ এই কাজ কিভাবে করতে পারে । সারা জীবন আমি আশরাফ ভাইকে ঘিন্না করে এসেছি ‌ । এবং রফিক ভাইকে সম্মান করেছি । আজকে আশরাফ ভাইয়ের বউ হাসছে আর রফিক ভাইয়ের বউ চিতার আগুনে জ্বলছে ।


এটা কেমন করে হয় ‌। হে আল্লাহ এটা তোমার কেমন বিচার যার হাসার কথা সে কাঁদছে যার কাঁদার কথা সে হাসছে । সন্ধ্যার পর রফিক ভাইয়ের বাসায় গেলাম লতা ভাবী সোফায় হেলান দিয়ে উদাস নয়নে ছাদের দিকে তাকিয়ে ছিলেন । আমি আমাকে দেখে চট করে চলে গেলেন ।


আমি কাপড় চোপড় গুছিয়ে ব্যাগে ভরলাম । এ বাসায় এক মুহুর্ত নয় চলে আসার সময় বললাম.. ।
আমি চলে যাচ্ছি ভাবি ?
আচ্ছা ভাই আবার এসো ?


তিনি অনেক উদাসী মনে কথাগুলো বললেন ভিতরে অনেক কষ্ট । কেন চলে যাচ্ছে কারণ জিজ্ঞাসা করলে না । আমার মনে হল একটা জীবন্ত মানুষকে রফিক ভাইয়া জিন্দা লাশ বানিয়ে দিয়েছে । মসজিদের সামনে রফিক ভাইয়াকে দেখতে পেলাম কি সুন্দর চেহারা ।


এ মানুষ কোন অন্যায় করতে পারে বলে আমার বিশ্বাস হতে চায় না । কোথাও আমার হয়তো ভুল হচ্ছে না তো ? আমি তখন রফিক ভাইকে বললাম….
চলে যাচ্ছে ভাই ?
তোর সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে?


না তবে আপনার বাসায় আর এক মুহূর্ত থাকতে ইচ্ছে করছে না আমার ।
তিনি আমার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালেন আমি হঠাৎ রফিক ভাইয়ের একটা হাত চেপে ধরলাম তারপর করুন কন্ঠে বললাম….
আপনি এই কাজটা করিয়েন না ভাই প্লিজ।


কোন কাজ ?
আপনি আর একটা বিয়ে করবেন ?
লতা তোকে বলেছে ?
না ।
তাহলে তুই জানলে কিভাবে ?
আমি আশরাফ ভাইয়ের বাসায় গিয়েছিলাম ।

ও তাহলে এই কথা লতা গিয়ে বলে এসেছে আমার নামে বদনাম ছড়াচ্ছে আচ্ছা তোর কি মনে হয় আমি অন্যায় কিছু করেছি ?
অবশ্যই এটা কি লতা ভাবীর প্রতি অন্যায় করছো না তুমি ।
মোটেও না আমি যা কিছু করব ধর্ম মেনে করবো । আমিতো পরকীয়া করছে না । ধর্মে কি দুই বিয়ে নিষেধ করা আছে । আমিতো অধর্ম কিছু করছি না ।


দেখেন ভাই আপনি আর একটা বিয়ে করলে হবে কি হবে বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ কি হবে ? ভাবির কষ্টটা কেউ গুরুত্ব দেবেন না।
তোর ভাবীও তো তোর তার স্বামীর ইচ্ছের মূল্যায়ন করছে না । তার কি উচিত না, স্বামীর ইচ্ছার মূল্যায়ন করা । আমার কি টাকা-পয়সার কম আছে । আমি কি ঠিকমত তার ভরণ পোষণ করছি না তাহলে সমস্যা কয় বিয়ে না করে যদি পরকীয়া করি সেটা কি ভালো হবে সেটাই আমি পরকীয়া করি ?

এই কথা শোনার পর আমি আর সেখানে দাঁড়ালাম না । হনহন করে হাঁটতে লাগলাম সামনে থেকে হাঁটছি আর ভাবছি এই যে রফিক ভাই এত ধর্ম পালন করত তাকে মানুষ বানাতে পেরেছে । নাকি কিছু মানুষ ধর্মের আড়ালে ভালো মানুষের মুখোশ পরে শুধু অভিনয় করে যান ।
মেয়েদের কোথায় যে সুখ আর কথায় দুঃখ, বিধাতা ছাড়া আর কেউ জানে না ।

তো বন্ধুরা মেয়েদের বাস্তব জীবনের গল্প – এক শিক্ষনীয় গল্প 2022 টি এখানে শেষ করলাম। আমাদের আজকের মেয়েদের বাস্তব জীবনের গল্প টি আপনাদের কেমন লেগেছে অবশ্যই নিচের কমেন্ট করে জানাবেন । আর নিয়মিত এরকম রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প পেতে আমাদের সাথে থাকবে।

গল্প টি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন

Leave a Comment