স্বামী স্ত্রীর রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প কাহিনী 2021

হ্যালো বন্ধুরা আমাদের chhota golpo ওয়েবসাইডে আপনাদেরকে স্বাগতম আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে স্বামী স্ত্রীর বাংলা রোমান্টিক ভালোবাসার ছোট গল্প কাহিনী 2021 । এই গল্পটা আপনারা জানতে পারবেন কিভাবে বউ এর সাথে রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প থেকে ভালোবাসাই পরিনত করার । ওর বউ বিয়ে আগে অন্য এক ছেলের ভালোবাসাতো কিভাবে বউ এর সাথে রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প কাহিনী শুরু করলো দেখতে থাকুন ।

রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প

রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প, রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প কাহিনী, রোমান্টিক ভালোবাসার ছোট গল্প, ভালোবাসার রোমান্টিক গল্প , স্বামী স্ত্রীর রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প, বউ এর সাথে রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প, বাংলা রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প, ভালবাসার রোমান্টিক গল্প, রোমান্টিক প্রেমের ছোট গল্প, রোমান্টিক গল্প ভালোবাসার গল্প,
রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প

বাসর রাতে যখন আমার স্বামী আমাকে স্পর্শ করতে এসেছিল । তখন আমি বলে দিলাম প্লিজ আমাকে এখনই স্পর্শ করবেন না । আমি আপনাকে স্বামী হিসেবে মেনে নিতে পারব না । আর আপনি আমাকে কখনো স্বামীর অধিকার দেখাতে আসবেন না । আর যদি জড়াজড়ি করেন তাহলে আমি কিন্তু আত্মহত্যা করতে বাধ্য হব ।

কি মেয়ে রে বাবা । বাসর রাতে স্বামী সাথে দুষ্টু মিষ্টি রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প কাহিনী করবে তা না এবলে ।


আরে না থাক ওইসব আপনাকে এইসব করতে হবে না । আমি কখনো আপনাকে জোর করব না । যেদিন আপনি মন থেকে আমাকে মানতে পারবেন । সেই দিন আমি আপনার উপর অধিকার দেখাতে কিন্তু একটা কথা জানতে খুব ইচ্ছে করছে । সেটা হচ্ছে আমাকে যখন স্বামীর অধিকার দিতে পারবে না তাহলে বিয়েটা করলে কেন ।


আমি এই বিয়েতে রাজি ছিলাম না আমাকে বাসা থেকে জোর করে বিয়ে দিয়েছে আমি শিবু কে ভালবাসতাম কিন্তু ও কিছু করে না বলে ওর কথা বাসায় বলতে পারেনি বাসা থেকে ছয় মাস সময় দিয়েছিল ‌ কিন্তু এর মধ্যে শিবু কোনভাবেই জয়েন করতে পারেনি তাই আমাকে বাধ্য করেছে বাসা থেকে আপনাকে বিয়ে করার জন্যে । আমি আপনাকে স্বামী হিসেবে মানতে পারব না । শিবুর সাথে কথা হয়েছে বলেছে ওর জব বলে আমাকে নিয়ে যাবে সেই পর্যন্ত আপনার এখানে থাকতে বলেছে ।


আচ্ছা তবে আমি আপনার উপরে কখনো স্বামীর অধিকার দেখাবো না এই বিষয়ে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন আমাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক থাকবে না । এটা তো বুঝতে পারলাম কিন্তু আমার একটা অনুরোধ আছে আমরা কি বন্ধু হয়ে থাকতে পারি এই কিছুদিনের জন্য ?

রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প কাহিনী


অবশ্যই সেটা আমার কোন সমস্যা নেই আমরা আজ থেকে বন্ধু হয়ে থাকবো ।
আচ্ছা আপনি একটু কষ্ট করে সবার সামনে স্বামী স্ত্রী হওয়ার অভিনয় করবেন আর বাকিটা আমি সামলে নেব আর আপনার হাত শিবুর এক করার দায়িত্ব আমার কথা দিলাম আপনাকে । এখন বেশি রাত না করে ঘুমিয়ে পড়েন আমি নিজে ঘুমাচ্ছি আপনিও প্রমান একথা বলে আমি একটা কাঁথা আর একটা বালিশ নিয়ে নিচে শুয়ে পড়লাম আর সুস্মিতা উপরের বিছানায় শুয়ে পরলো ।

সকালে আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি ছেলেটার ঘরে নেই আমি ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে বসে আছে কিছুক্ষণ পর ছেলেটা আসলো আর খেতে নিয়ে গেল আমি সবার সাথে বসে খাওয়া দাওয়া শুরু করলাম শাশুড়ি আমাকে নিজে হাতে তুলে খাইয়ে দিলো অনেক রকমের রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প শুরু করল আমার সাথে মনে হল মহিলাটি খুবই ভালো মানুষ ।


সুজন ওরফে বর্তমান স্বামী সেও ভালো মানুষ না হলে বাসর রাতে স্ত্রী মুখে অন্য কাউকে ভালোবাসার কথা শুনেও কিছু বলল না আমাকে বরং আমাকে সাপোর্ট করল এইভাবে সপ্তাহ খানেক কেটে গেল । এখন আমার আর সুজনের ভাল একটা বন্ধুত্ব সম্পর্ক গড়ে উঠেছে ।


পরিবারের সবার সাথে আমার একটা ভালো সম্পর্ক হয়ে গেল আমার মা মারা গেছে । সেই ছোট্টবেলা তে আমি আমার শাশুড়ির মাঝে আমার মাকে খুঁজে পাই । এরকম শাসক এরকম আদর স্নেহ একদম আমার মায়ের মত ।

আমাকে কখনো নিজের হাতে খেতে দেয়না । কোন কাজ করতে দেয় না । আমাকে প্রতিদিন বিকেলে চুল বেঁধে দেয় আমি মন থেকে শ্রদ্ধা করতাম শাশুড়িকে এই সবকিছুর মধ্যে আমি সাদা মনের কথা ভুলে গেলাম । বিয়ের দশ দিনের মাথায় আমরা গ্রাম থেকে কলকাতায় চলে আসলাম । বাসায় থাকত সেখানে উঠলাম আমরা সামান্য গুছিয়ে সে ডিনার করতে বাইরে থেকে নিয়ে এসে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম । ।


সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি সুস্মিতা এখনো ঘুমোচ্ছে আমি ওকে না জাগিয়ে নিজেই ফ্রেশ হয়ে উঠে নাস্তা তৈরি করতে করতে দেখি সুস্মিতা উঠে গেছে । আমি সুস্মিতাকে টেবিলে বসিয়ে । খাবারটা দিলাম সাথে আমিও খেয়ে নিলাম তারপর সুস্মিতাকে বলে আমি অফিসে চলে আসলাম ।

এরপর সুজন অফিসে চলে গেল আমি বসে আছি একা একা হঠাৎ শিবু ফোন করল । আমি ফোনটা রিসিভ করে অনেকক্ষণ রোমান্টিক ভালোবাসার ছোট গল্প কথা বললাম । শেষে শিবু আমাকে দেখা করতে বলল । আমি শিবুর সাথে দেখা করতে গেলাম কিছুক্ষণ শিবু সাথে কাটিয়ে বাসায় চলে আসলাম । এখনো সুজন বাসাতে আসেনি তাই আমি ফ্রেশ হয়ে বসে বসে গেম খেলতে লাগলাম ।

স্বামী স্ত্রীর রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প

হঠাৎ সুজনের গলার স্বর আমি উপরে তাকিয়ে দেখি সুজন এসেছে। আমি কিছু বলার আগেই সুজন আমাকে জিজ্ঞেস করল দুপুরে খেয়েছো । কিনা আমি বললাম কোন খাবার ছিল না খাওয়ার মত আর আমি রান্না করতে জানিনা । তাই আমি দুপুরে না খেয়ে আছি আমার কথা শুনে সুজন বল আচ্ছা এইসব সমস্যা নেই । দুজনের কথায় কোন আগামাথা বুঝতে পারলাম না । তাই চুপ করে বসে আগের মতোই গেম খেলতে লাগলাম ।

অফিস থেকে এসে ব্যাগটা রেখে চলে গেলাম রান্নাঘরে যেহেতু সুস্মিতা রান্না করতে জানে না তাই কাজটা আমাকে করতে হবে আমি রান্না করে শেষমেষ তাকে নিয়ে খেতে বসলাম সুস্মিতা আমার রান্নাকে খুব পছন্দ করলো আমি তার রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প শুনলাম । আর গল্প করতে করতে খাওয়া দাওয়া শেষ করলাম।

তারপর অন্য দিনের মতো আমি নিচে আর সুস্মিতা ওপরে খাটে শুয়ে পড়ল এভাবে আমার দিন কাটতে লাগল ইদানিং সুস্মিতা আমাকে রান্নার কাজে ভালো সাহায্য করে আর নিজেও কিছু রান্না শিখে গেছে আমার কাছ থেকে এইভাবে আমাদের বিয়ের প্রায় চার পাঁচ মাস কেটে গেল এর মাঝে আমি একদিন গিয়ে ডিভোর্সের আবেদন করে আসলাম ছয় মাস পরে ডিভোর্স হয়ে যাবে উকিল বলেছে ।

(তো বন্ধুরা আমাদের এই রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প কাহিনী টি কেমন হয়েছে অবশ্য নিচে কমেন্ট করে জানাবেন । )

এই করতে করতে আমাদের দিনকাল ভালই যাচ্ছিল সুজন সবকিছু করে আমাকে কিছু করতে দেয় না ও আমাকে রান্না করে খাওয়ায় স্বামী হিসেবে সুজন একজন আদর্শ স্বামী আমি ধীরে ধীরে এখন আমার নিত্যদিনের পরিণত হয়ে গেছে আবার অন্যদিকে শিবু ও মাঝে মাঝে দেখা করতে যায় ।

ওর শেষ চাকরিটাও হয়নি আমি প্রতিদিন দেখতাম সুজন ডাইরির পাতায় কি যেন রাখে কিন্তু কখনো পড়িনি আজকে হঠাৎ বিছানার নিচে হাত দিতে সুজনের ডাইরিটা হাতে আসলো আমি অনেকটা আগ্রহ নিয়ে ডাইরিটা পড়তে শুরু করলাম। দেখিতো ডাইরিটা এ কি লেখা আছে ।


ডাইরেক প্রথম পাতা উল্টাতে লেখা দেখলাম আজ আমার বিয়ে হয়েছে । আমার স্ত্রীর নাম সুস্মিতা । দেখতে অসম্ভব সুন্দরী। আমি তাকে প্রথম দেখাতেই ভালোবেসে ফেলেছি । আমি মনে মনে আমাদের রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প বুনতে শুরু করে দিয়েছিলাম ।

রোমান্টিক ভালোবাসার ছোট গল্প

কিন্তু প্রথম রাতে যখন তাকে স্পর্শ করতে গেলাম । তখন সে আমাকে অস্বীকার করল বলল সে নাকি অন্য কাউকে ভালোবাসে । আমি তাকে আর কোন বাধা দিলাম না কারণ ভালোবাসার মানুষকে কখনো আটকাতে হয়না । আমি তাকে ছেড়ে দেওয়ায় ভালো হয় সে তোমার হয় তাহলে ফিরে আসবে আর যদি তোমার না হয় তাহলে তার নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে থামবে ।


তাই আমি সুস্মিতাকে ছেড়ে দিয়েছি । আমার হয়ে থাকলে থাকবে না হয় সে চলে যাবে আমাকে ছেড়ে । এভাবে আমাকে নিয়ে সুজন নিজের কল্পনা জগত সাজিয়েছে অথচ আমাকে একটিবারের জন্য কিছু বুঝতে দেয়নি সে । দেখতে দেখতে আমি পুরো ডাইরিটা পড়ে ফেললাম ।

শেষপাতা এসে একটা কথা আমার সবকিছু যেন মিলিয়ে এক করে দিল প্রবলবেগে এক প্রয়ল সৃষ্টি করলো আমার মনের মধ্যে । শেষ পাতা লেখাটি ছিল সুস্মিতা মেয়েটাকে আমি প্রতিদিন একটু একটু করে অনেকটাই ভালবেসে ফেলেছি ওর তো যাবার সময় হয়ে গেছে প্রায় । সে আমাই নিয়ে স্বপ্নের রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প বুনেছে ।


চার মাস শেষ হয়ে গেছে ও কি বলেছিল ছয় মাস পরে তাদের ডিভোর্স পেপার চলে আসবে । তার মানে এই সুস্মিতা আর দুমাস আছে এখানে । তারপর সে তার ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে সুখে শান্তিতে নতুন করে বসবাস শুরু করবে ।

সুস্মিতা অবশ্যই ডিভোর্সের বিষয়ে কিছু জানেনা জানেনা অবশ্য না করবে না । কারণ সুস্মিতা এটাই চাই আমি ওর খুশির জন্য হলেও কে ডিভোর্স দিব । কারন ভালোবাসি যে ওকে আচ্ছা আমি ওকে ভালোবেসে ফেলেছি । এত কিছু দিন পর চলে যাচ্ছে তখন আমি একা থাকবো কি করে ? ওকে ছাড়া পারবো তোকে ছাড়া একা থাকতে আমি ?


আমাকে পারতেই হবে আমার ভালোবাসার মানুষকে কখনো কাঁদাতে দেব না আমি ওর হাঁসের জন্য হলেও আমাকে পারতে হবে তার পরের পৃষ্ঠা ফাঁকা পেলাম তার পানে এটা গতকাল লেখা আমি ডায়রির জায়গা মতন রেখে দিলাম আমি চিন্তা করতে লাগলাম কি করতে যাচ্ছি আমি এমন পবিত্র ভালোবাসা পেলে ।

বাংলা রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প

আমি শিবুর কাছে যেতে চাচ্ছি অন্যদিকে শিবু আমাকে ভালোবাসে এটা আমি কেমন দুটানায় পড়ে গেলাম কি করবো কিছু বুঝতে পারছিনা আমার মাথায় ব্যাথা শুরু হয়ে গেছে কি করবো কিছুই বুঝতে পারছিনা তাই এই সব চিন্তা বাদ দিয়ে কিছুটা ঘুমিয়ে পড়লাম ।

সুজন:— অফিস থেকে এসে দেখি সুস্মিতা ঘুমিয়ে আছে আমি ওকে আর ডাকলাম না ওকে দেখতে একদম অপসরার মতো লাগছিল কিন্তু এটাতো আর আমার অপসারণ ও তাই তার দিকে বেশিক্ষণ তাকানোর না থেকে কাপড় চেঞ্জ করে রান্না করে ফেললাম । রান্না করে সুস্মিতাকে ঘুম থেকে উঠিয়ে খাওয়ার টেবিলে বসিয়ে দিলাম । এরপর দুজনে মিলে খাওয়া-দাওয়া করলাম এবং সাথে অনেকক্ষণ রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প করলাম । তার পরে প্রতিদিনের মতো ঘুমিয়ে পড়লাম ।


সুস্মিতা:— সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আর বাসায় নেই তারপর ফ্রেশ হয়ে ডাইনিং রুমে এসে দেখি টেবিলে এর উপরে একটা কাগজ রাখা । আমি কাগজটা খুলে পড়তে লাগলাম। সেখানে লেখা আছে সুস্মিতা আজকে একটা মিটিং থাকায় আমি আপনাকে ডাকতে পারলাম না । আপনি প্লিজ কিছু মনে করবেন না । আপনি ঠিকমতো নাস্তা আর লাঞ্চ করে নেবেন ।

আমি মুচকি একটা হাসি দিয়ে খেয়ে নিলাম। সুজনের এই ছোট ছোট কেয়ার আর আমার জন্য ওর হৃদয়ে থাকা এক সমুদ্র গোপন ভালোবাসা আমাকে বাধ্য করছে ওর জন্য আমার মনে একটা জায়গা তৈরি করতে আমি ধীরে ধীরে সুজনের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছে।

আমি ওকে মনে হয় ভালোবেসে ফেলেছি । কিন্তু এমন কেন হচ্ছে আমার এমন তো হওয়ার কথা ছিল না । আমি এখন কি করবো কিছুতেই বুঝতে পারছিনা ।

সুস্মিতা:— এইসব চিন্তা করতে করতে কিছুক্ষণের মধ্যে ভাইয়া এসেছে আমাদের বাসায় । অনেকক্ষণ কথা বললাম ভাইয়া যাওয়ার সময় বলে গেল । সুস্মিতা বিয়ের পর মেয়েদের সবকিছু তার স্বামী আর সংসার কে ঘিরে তাই বলছি যে যা করবি একটু ঠান্ডা মাথায় ভেবে চিন্তে করবে ।

যাতে তোর ভালো হয় তুই করবি । ভাইয়ার কথাগুলো আমাকে নতুন ভাবে ভাবতে বাধ্য করলো । আমি যতই ভাবছি ততই সুজনের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ছি । ছেলেটা আসলে এতটাই ভাল যে ওর প্রতি যে কোন মেয়ে দুর্বল না হয় পারবে না । আমি এইসব কথা চিন্তা করছিলাম হঠাৎ করে কলিং বেলটা বেজে উঠলো ।

বউ এর সাথে রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প


দরজা খুলে দেখলাম শাশুড়ি মা এসেছে । উনি আমার সাথে বিভিন্ন বিষয়ে গল্প করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে পরল । উনার আবার রুটিন সন্ধ্যার পরে ঘুমানো উনি আমাকে রান্না করতে বলে ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন । আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম । আমি তো রান্না করতে পারি না এদিকে সুজনও বাসায় নাই কি করি এখন ডাইনিং রুমে বসে চিন্তা করছিলাম ।

সুজন :— আমি অফিস থেকে এসে দেখি সুস্মিতা কোন একটা বিষয় নিয়ে খুব চিন্তা করছে আমি ওকে জিজ্ঞেস করাতে ও সবকিছু খুলে বলল আমি আর দেরি না করে কাপড় চেঞ্জ করে রান্না করতে চলে গেলাম সুস্মিতা আমার সাথে এসে আমাকে রান্নার কাজে হেল্প করলো রান্না শেষ করে সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া করলাম ।

পরের দিন মাকে ডাক্তার দেখিয়ে দিলাম তারপরে ট্রেনে চলে গেল এই দুদিনে সুস্মিতা আর মার সুন্দর একটা সম্পর্ক তৈরি হলো একদম মাঝে মা আর মেয়ের মতন ।

সেটাতে অবশ্য আমিও খুশি হয়েছি কিন্তু সুস্মিতা চলে যাওয়ার কথা মনে পড়লে সব কেমন যেন উলটপালট হয়ে যায় যাই হোক মা চলে যাওয়ার পরের দিনই যথারীতি সবকিছু আগের মত শুরু হলো আমিও সকালে উঠে অফিসে চলে গেলাম সুস্মিতার জন্য নাস্তা তৈরি করে রেখে চলে গেলাম। ।


সুস্মিতা:— মা চলে যাওয়ার পর থেকে সুজন আবার নরমাল আচরণ শুরু করেছে আমি সকালে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা কে ঘরে এসে ডাইরি বের করে দেখলাম কিছুই লেখেনি শেষ কয়েক দিনে ।

এই দেখে সুজন এর উপর আমার প্রচন্ড রাগ হলো । কিন্তু কেন হল তা জানিনা মা চলে যাওয়ার পর থেকে আমি সুজন এর থেকে প্রতিদিন রাতে রান্না করা শিখি । আমি কি জন্য সুজন এর উপর অধিকার দেখাতে যাচ্ছি আমি নিজেই বুঝতে পারছি না।


আমি তো নিজেই চেয়েছিলাম সুজন যেন আমার ওপর তার অধিকার না দেখায় তাহলে ডায়েরি লেখা নিয়ে আমার মন খারাপ লাগছে কেন আমি কেন সুজন এর উপর রাগ করছে এইসব ভাবতে ভাবতে সুজনের ফোন এলো ।

সুজন আমাকে বিভিন্ন কথা বলল যে আপনাকে আজকে নতুন একটা তরকারি রান্না করে খাওয়াবো আমি ঠিক আছে বলে ফোনটা রেখে দিলাম তারপর চলে গেলাম শিবুর সাথে দেখা করতে । আমি শিবুকে সবই বললাম যে আমি দুটানায় পড়ে গেছি এখন আমি কি করবো কিছু বুঝতে পারছিনা ।


সবকিছু শুনে শিবু বলল যেটা করবে তুমি ভেবেচিন্তে করবে দেখো একটা ভুল যেন জীবনের কান্নায় পরিণত না হয় শিবুর সাথে কথা বলতে গিয়ে প্রায় রাত নটা বেজে গেছে সেদিকে খেয়াল নেই । আমি ঘড়ি দেখে দ্রুত বাসায় চলে আসলাম ।

ডিনার করে যেতে বলেছিল কিন্তু আমি করিনি বাসায় এসে দেখি টেবিলে উপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে গিয়েছে । আমি ওকে ডেকে ডিনার করে ঘুমিয়ে পড়লাম পরেরদিন অফিস যাওয়ার সময় আমি ডাইরি খুলে পড়তে লাগলাম ।


ওখানে লেখা ছিল আজকে আমি অনেক খুশি কারণ আজকে সুস্মিতা আমাকে নিজের হাতে খাবার বেড়ে গেছে ওর হাসিটা খুব সুন্দর আমি চাই ওর মুখে এই হাসিটা যেন সবসময় থাকে ।


এইসব পড়ার পর আমি মনে মনে ঠিক করলাম আজকে আমি আমার মনের সব কথা সুজন কে বলে দেব । আমি সেই ভাবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করলাম ।
সুজন:— আজকের ডিল এর কাছ থেকে আমি ডিভোর্স পেপার নিয়ে এসেছি আজকে সুস্মিতার জন্মদিন এটা আমার জীবনের সবথেকে বড় উপহারটা দেব এইদিকে শিবুও জব হয়েছে । ওকেও ডেকেছি ।


সুস্মিতা:— আমি রেডি হয়ে বসে আছি সন্ধার পরে সুজন বাসায় এসে আমাকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে গেল ওখানে শিবু কেউ দেখলাম । ওকে দেখে আমার মুডটাই নষ্ট হয়ে গেল ।

তারপর সুজন আমাকে একটা টেবিলে বসিয়ে চোখ বন্ধ করতে বলল আমি চোখ বন্ধ করে বসে আছি হঠাৎ দুই পাশ থেকে দুইজন সুজন আর শিবু শুভ জন্মদিন বলে চিল্লিয়ে উঠলো আমি চোখ খুলে অবাক হয়ে গেলাম আমার সামনে কেক তাও আবার নর্মাল না চকলেট কেক ।

আমি কেকটা কাটলাম । তারপর শিবু আমাকে একটা পেপার হাতে দিয়ে বলল যে সুস্মিতা দেখো আমার চাকরি হয়েছে ।

রোমান্টিক প্রেমের ছোট গল্প


এটা আমার জয়নিং লেটার এটা আমার তরফ থেকে তোমার জন্মদিনের উপহার আমি আমি সুজন এর দিকে তাকিয়ে আছি ওর উপহারের অপেক্ষায় আমার তাকানো দেখে সুজন বলল আমি আজকে তোমাকে খুব দামী একটা উপহার দেব যেটা দেওয়ার দায়িত্ব আমি নিয়েছিলাম আমি সুজন এর কথায় কোন আগামাথা বুঝতে পারলাম না ।

সুজন একটা কাগজ আমার সামনে রেখে তাতে স্বাক্ষর করে বলল । এটা তোমার জন্মদিনে আমার পক্ষ থেকে তোমার জন্য উপহার ডিভোর্স পেপার । যেটা তুমি প্রথম রাতেই আমার কাছে চেয়েছিলে ।


যেটা আজকে থেকে তোমাকে আমি উপহার হিসেবে দিলাম আজকে তোমার আর শিবুর মাঝে আর কোন বাধা নেই তোমাদের নতুন জীবনের জন্য আমার শুভেচ্ছা রইল । এই কথা বলে আমার হাতে শিবুর হাত দিয়ে সুজন চলে গেল । যাওয়ার সময় ওর চোখে আমি জল দেখছি আমি জানি সুজন আমার কথা রাখতে এমনটা করেছে ।


সুজন এটা কি করল , আমি তো এটা চাইনি । আমি তোকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চেয়েছিলাম । এই প্রথম আমাকে তুমি বলে ডাকল । আবার আজকেই পর করে দিল । আমার চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগল । এটা দেখে সে বললো সুস্মিতা তুমিও যাও আমার থেকে এখন সুজনের প্রয়োজন বেশি ।

ভালোবাসার শুরু পাওয়ার মধ্যে নয় ত্যাগের এর মধ্যেও আছে এটা সুজনের থেকে আজকে আমি শিখেছি আমি পাঁচ বছরে তোমার মনে যতটুকু জায়গা করতে পেরেছি সুজন এই ছয় মাসে তার থেকেও বেশি জায়গা করতে পেরেছে । সুজন তোমার মনে এই ছয় মাসে রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প কাহিনী এঁকে দিয়েছে যেটা আমি পারিনি ।


তাই তুমি যাও সুজনের কাছে আমি শিবুর কথা শুনে সাথে সাথে বাসায় এসে দেখলাম । সুজন আমার ঘুমোনো বালিশ জড়িয়ে ধরে খুব জোরে জোরে কাঁদছে পিছন ফিরে ছিল। তাই আমাকে দেখতে পায়নি । আমি বললাম আমাকে ছেড়ে যখন তুমি থাকতেই পারবে না তাহলে আমাকে ওখানে ছেড়ে চলে আসলে কেন?

সুজন:— কি হলো আপনি এখানে কেন আপনাদের মধ্যে কি হয়েছে আপনি কাঁদছেন ই বা কেন ?
সুস্মিতা:— আমি সবকিছু ফেলে চলে এসেছি তোমার কাছে?
সুজন:— দেখেন আপনি আবার না বুঝে আবার একটা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন আপনি?


আমি সুজন কে আর একটাও কথা না বলতে দে ওর ঠোঁটের উপর আঙ্গুল দিয়ে বললাম তুমি । এই যে তুমি আমার শুধু তুমি এই তুমি কাছে দূরেও তুমি? সুজন আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি ? আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না ।
সুজন:— কারণ ?


সুস্মিতা:— কারণ আমি তোমার প্রতিদিন দরজায় নক করা মিস করবো তোমার কেয়ার গুলো মিস করবো তোমার হাতের সব নতুন রেসিপি গুলো মিস করবো । আর সবচেয়ে বেশি মিস করবো। তুমি অফিসে চলে গেলে তোমার সাথে গন্ধো নেওয়াটা এটা ছাড়া আমি থাকতে পারবো না ।


তাহলে আজ থেকে তুমি করে বলব তোমাকে তারপর রাতে খাওয়ার পর প্রতিদিনের মত নিচে ঘুমাবো । একটু পরে বুকটা কেমন ভারী ভারী মনে হল চোখ খুলে তাকিয়ে দেখলাম । সুস্মিতা বুকের উপর মাথা রেখে আমাকে জড়িয়ে ধরে আছে । আমিও বললাম কি হল তুমি আবার নিচে আসলে কেন?

আজকে থেকে আমার বিছানা তুমি । তুমি যেখানে থাকবে আমিও সেখানে তোমার বুকের উপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে থাকবো । একটা জিনিস চাইবো জন্মদিন উপলক্ষে ?

কি চাইবে?
আমার একটা বেবি লাগবে বলেই সুজনের বুকে মাথা গোজলাম ।
এই কথা তবে চলো বেবি গলার নিচে নেমে পড়ি তারপর সুস্মিতা মুখ উঁচু করে ওর ঠোঁটে জোড়া নিজের দখলে নিয়ে এলাম এভাবে পূর্ণতা পেল সুজন আর সুস্মিতার ভালোবাসার গল্প ।

গল্প টি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন

1 thought on “স্বামী স্ত্রীর রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প কাহিনী 2021”

Leave a Comment