স্ত্রীর ভালোবাসা পেয়ে কাছে আসার গল্প || bangla choto golpo 2021

হ্যালো বন্ধুরা আমাদের bangla chhoto golpo সাইটে আপনাদের স্বাগতম । আজ এই bangla choto golpo তে আপনাদের বউ এর থেকে ভালবাসা আদায় করে কাছে আসার গল্প শুনাবো । বউকে ভালোবাসলে সংসার যে কত সুখের হয় তা জানতে পারবেন ।

আমি অনেকক্ষণ ধরে চেষ্টা করছিলাম আমার অফিসের একজন ইস্টার্ভ । সুমন ভাইয়ের ফোনটা না তোলার জন্য । কিন্তু সুমন ভাই ফোনে এতটাই ব্যস্ত হয়েছে যে উনি সব কথাগুলো আমার কানে আসছিলো কথার ধরন দেখে বুঝতে পারলাম স্বামী-স্ত্রীর মাঝে অনেক ঝামেলা চলেছে।

bangla choto golpo

bangla choto golpo
bangla choto golpo


সুমন ভাই ফোনটা রেখে দিয়ে যখনই গোমড়ামুখো চেয়ারে বসে রইলেন তখন আমি হালকা গায়ে এসে ভাইকে বললাম …
ভাই আপনার কি কোন সমস্যা হয়েছে কি?
সুমন ভাই কতক্ষণ নিরব থেকে উত্তরটা দিলেন ।


রাহুল তোমার বিয়ে যেন কবে ?
আমি একটু লজ্জা পেয়ে বললাম…
এখনো তারিখ ঠিক হয়নি কিন্তু যতদূর সম্ভব মনে হয় সামনের মাসে হয়ে যাবে। আমাদের কাছে আসার গল্প bangla choto golpo টি কেমন লেগেছে অবশ্যই নিচে কমেন্ট করে জানাবেন ।


আমি তোমাকে বড় ভাই স্যার একটা পরামর্শ দেই । জীবনে বিয়ে করো না বউ এসে সুখের জীবনটা তেজপাতা করে দিবে । ভগবানের এই 30 টা দিন কোন না কোন কিছু নিয়ে বউ তোমার সাথে ঝগরা নিশ্চয়ই করবে ।


আজ সকালে যখন অফিসে আসার আগে এক ডর্জন মুরগির ডিম বাড়িতে কিনে রেখেছে ছিলাম । আর এখন বউ ফোন দিয়ে বলে মুরগির ডিম এত ছোট ছোট কেন? তুমিই বলো একথা শুনার পর মেজাজটা কার না খারাপ হবে?।

কাছে আসার গল্প

কাছে আসার গল্প
কাছে আসার গল্প

এইসব কথা শুনে সবারই রেগে যাওয়া কথাটা স্বাভাবিক । কিন্তু আপনি না রেখে বরং ভাবিকে ফাজলামি করে বলতেই পারেন । এই যে ছোট ছোট ডিম পাড়তে মুরগির কতখানি কষ্ট হয়েছে । সেটা তুমি বুঝবে না যদি তোমার কখনো কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ হয় তখন বুঝবে মুরগির ডিম পাড়তে কতটা কষ্ট হয়।

আপনি যদি এই সামান্য কথাটা বলতেন তাহলে ভাববে লজ্জা পেয়ে এমনিতেই ফোনটা রেখে দিত ডিম নিয়ে আপনার সাথে ঝগড়া করতো না ।
সুমন ভাই আমার কথাগুলো শোনা একমনে কী যেন ভাবতে লাগল । তাই তখন আমি ভাইয়াকে বললাম…


ভাই আপনি ভাবিকে শেষবার কবে বলেছেন, আমি তোমাকে ভালোবাসি?
ধুর মিয়া, নিজের বউকে ভালবাসি এতে বলার কি আছে?


আমরা প্রতিটা ছেলেই এই খানে সব থেকে বড় ভুল করে ফেলি । একটা মেয়ে যখন প্রেমিকা থাকে তখন প্রেমিক ছেলেটা দিনে হাজারো বার মেয়েটাকে বলে ভালোবাসি ভালোবাসি সেই মেয়েটা তখন ছেলেটার বউ হয় তখন বছরের পর বছর চলে গেলেও ছেলেটা একবারের জন্য বলে না আমি তোমাকে ভালোবাসি?

প্রেমিকা রাগ করেছে রাগ ভাঙ্গানোর জন্য প্রেমিকার পছন্দের চকলেট কিনে আনে অথচ সেই মেয়েটার বিয়ের পর রাগ করলে ছেলেটা তখন বিরক্তি হয়ে বলে, “এত ঢং করো কেন?” (আমাদের কাছে আসার গল্প bangla choto golpo টি কেমন লেগেছে অবশ্যই নিচে কমেন্ট করে জানাবেন )

আমি তোমায় ভালোবাসি


মাঝরাতে ফোনে কথা বলার অবস্থায় প্রেমিকা যখন একটু কাঁশি দেয় তখন প্রেমিক ছেলেটার ওষুধ কিনে এনে প্রেমিকার বেলকনি সামনে হাজির হয়।
অথচ প্রেমিকা বউ হওয়ার পর 104 ডিগ্রি জ্বরে যখন বিছানায় এক পাশে কাটা রাতে থাকে। তখন অপর পাশে শুয়ে থাকা ছেলেটির তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে না ছেলেরা কেন এমন করে বলতে পারেন ভাই?


কেন?
প্রেমিকা হারানোর ভয় থাকে কিন্তু বউ হারানোর ভয় থাকে না’ বলে বৌকে কখনো ভালোবাসি শব্দটা বলা হয়ে ওঠেনা !
সুমন ভাই মাথা নিচু করে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে । আমি তখন ভাইয়ের কাঁধে একটা হাত রেখে বললাম…


আজ বাসায় স্বামী না হয়ে বরং প্রেমিক হয়ে ফিরে যাবেন ।
এই কথাগুলো বলে আমি আমার কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলাম । বিকেল চারটার দিকে হাতের কাজগুলো শেষ করে অফিসের রুমের এক কোনায় এসে দাঁড়ালাম সিগারেট খাওয়ার জন্য ‌। এমন সময় আমার এক কলিগ খালিদ ভাই আমার পাশে এসে দাঁড়ালেন আমি ওনার দিকে সিগারেটের প্যাকেটটা বাড়িয়ে উনি বলেন ….


আর বলেন না ভাই বইয়ের চাপের সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি আমি!
হ্যঁ হ্যাঁ দেখলেন ভাবি আপনার কত ভালোবাসে ? ভাবী আপনাকে নিয়ে শত বছর বেঁচে থাকতে চাই তাইতো আপনার বদ অভ্যাস ত্যাগ করালো ।


আমায় ভালোবাসে না কি আমার টাকা-পয়সা ভালো আছে আল্লাহই জানে।
মানে !
রাহুল, তুমি সুমন সাহেব কে তোমার বলা সবগুলো কথা আমি শুনেছি ।

তোমার বালা সবগুলো কথা কিন্তু ঠিক না । কিছু বউ আছে তাদের অল্পতে মন ভরে না ‌। আমার বউয়ের সবসময় এটা চাই ওটা চাই । এত দামী দামী জিনিস কিনে দেই তবুও আমার বউয়ের মন পাই না ।

ভালোবাসার গল্প


খালিদ ভাই, আপনারা প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন না ?
হ্যাঁ রে ভাই । এটাই আমার জীবনের সবথেকে বড় ভুল । প্রেম করে বিয়ে না করলে বউ আমার কথায় উঠতো আর বসতো ।
ভাই শেষবার ভাবিকে কবে একটা গোলাপ কিনে দিয়েছিলেন ?


খালিদ ভাই আমার কথা শুনে মাথা চুলকাতে লাগলো আর মনে মনে কিছু ভাবতে লাগলো । আমি তখন বললাম ….
খালিদ ভাই শেষবার কবে ভাবি রূপের প্রশংসা করেছিলেন ? কিংবা আজ সকালে যখন অফিসে এসেছিলেন তখন ভাবি কি রঙের জামা পড়ে ছিল সেটা কি আপনার মনে আছে?


খালিদ ভাই কি যেন চুপ করে ভাবতে থাকলেন আর মুচকি মুচকি হাসতে থাকেন ।
ভাই শুনেছি আপনাদের বিয়ের আগে যতবার ভাবি আপনার সাথে দেখা করেছে আপনি ততোবারই ডাইরিতে লিখে রাখতেন ভাবি কি রঙের জামা পড়েছিল কিভাবে সেজেছিলো । আর বিয়ের পর ভাবীর দিকে কোনদিন হয়তো ভালো করে তাকিয়ে দেখেন নি ।


আমি শেষ হয়ে যাওয়া সিগারেটের আগুন টা নিভিয়ে খালিদ ভাই কে বললাম….
সুমন ভাইয়ের মতো আপনাকে বলছি আজ বাসায় ফিরে যাবেন প্রেমিক হয়ে স্বামী হিসাবে নয় । ভাবি যদি আপনাকে ঠিকমতো কাছে পাই তাহলে পৃথিবীর কোন ঐতিহ্যের প্রতি ভাবির লোভ হবে না ।

ভালোবাসার গল্প 2021


এই করতে করতে আমাদের অফিসের কাজ সেরে সবাই নিজের নিজের বাড়ি চলে গেলাম।
তখন সুমন ভাই বাসায় গিয়ে কলিং বেল বাজাতেই সুমন ভাইয়ের স্ত্রী মানে বৌদি দরজা খুলে সুমন ভাইকে বললো….


সকালে যে ডিম দিয়ে চলে গেলে বাসায় যেয়ে চাল নেই সেটা কি তোমার মনে ছিল না চাল নেই তাই রান্না করিনি ।
এতে কোন সমস্যা নেই ঝাল মুড়ি খেয়ে আজ দুজনে রাতটা পার করে দেবো কি বলো!


একদম ঢং করবে না । বাল্ব এনেছো?
মানে ! কিসের বাল্ব ?
সকালের জেনা তোমাকে বলেছিলাম বেডরুমের বাল্ব টা নষ্ট হয়ে গেছে একটা নতুন বাল্ব আনতে ।


আমার কৃত্রিম আলোর দরকার কি? ঘরে তোমার রূপের আলোতে এমনিতেই আলোকিত হয়ে থাকবে ।
এই কথা শুনে বৌদি অবাক চোখে সুমন ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বললো ….
তুমি কি আজকাল নেশা করা শুরু করেছো? কি সব উল্টোপাল্টা বলছো।


এই কথা বলে বৌদি যখন এসে চলে যাবে তখন পিছন থেকে সুমন ভাইয়া বউদের হাতটা চেপে ধরে বলল …
স্বেহা, আমি তোমায় ভালোবাসি


অন্যদিকে ফুলটা হাতে নিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় অর্পিতা ভাবি খালিদ ভাই কে বলল।
আজ তো আমার জন্মদিন না বিবাহ বার্ষিকী না । হঠাৎ ফুল দিলে যে?

দুষ্টু মিষ্টি ভালোবাসার গল্প


আমি চিন্তা করে দেখলাম এখন থেকে প্রতিদিন বাসায় ফেরার সময় তোমার জন্য একটা করে গোলাপ কিনে আনবো ।
তোমার কাছে সোনার একজোড়া কানের দুল চেয়েছিলাম বলে তুমি এই অভিনয় শুরু করে দিলে নাকি?


তুমি কি সোনার দুল চাও। নাকি আমিতো পর্যন্ত আমার থেকে প্রতিদিন একটা করে গোলাপ চাও?
চোখের জলটা লুকিয়ে অর্পিতা ভাবি উত্তর দিল।


একদিন ফুল আনতে মিস করলে তখন কিন্তু হিরের নেকলেস চাইবো বলে দিলাম।
বিয়ের আগেও তুমি এই সালোয়ার-কামিজ করতে আর এখনও বিয়ের পরেও সালোয়ার-কামিজ পড়ো । এখন থেকে সপ্তাহে দুই বার হলেও আমার জন্য শাড়ি পরবে কেমন । আর এখন তৈরী হয়ে নাও গলির মোড়ে দেখে আসলাম একটা ফুচকার দোকান। চলো তুমি আর আমি আজ ফুচকা খাবো।


খালেদ ভাইয়ের কথা শুনে অর্পিতা অবাক হয়ে বললো…
তোমার শরীরে কি জ্বর এসেছে?
তুমি ছুঁয়ে দেখো?


অর্পিতা ভাবিকে ছুঁয়ে দেখার জন্য খালেদ ভাইয়ার হাতটা ধরল তখন খালিদ ভাই অর্পিতা ভাবীর দিকে তাকিয়ে বলল…
অর্পিতা আমি তোমাকে ভালোবাসি !


এদিকে আমি নিচে নেমে শ্রাবণী কিছুটা রাগী চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বললো …
তোমার সমস্যাটা কি? কয়দিন পর আমাদের বিয়ে আর তুমি এখনও আমার বাসার সামনে শুধু ঘুরঘুর করো । বাবা মা মনে মনে কি ভাববে বলতো?
আমি বক্সটা শ্রাবণীর হাতে দিয়ে বললাম …

স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প


আমাদের অফিসের সামনে খুব ভালো চাউমিন বানায় । তুমিতো চাওমিন খেতে পছন্দ করো তাই তোমার জন্য নিয়ে আসলাম ।
বক্সটা নিয়ে মুচকি হেসে শ্রাবণী তখন চলে যাচ্ছিল তখন আমি পিছন থেকে ওকে বললাম….


শ্রাবণী, আমি তোমাকে ভালোবাসি
ওইদিকে সুমন ভাইয়া বৌদির কাঁধে হাত রেখে বলল…
কি হলো ।
না মানে ঝাল মুড়ি থেকে খুব ঝাল দিয়েছে তাই চোখ দিয়ে পানি পরছে ।


আবার অন্যদিকে খালিদ ভাই অর্পিতা ভাবির হাতটা ধরে বললো ….
কি হয়েছে ?
আর বলো না ফুচকার টক,টা কেমন জানি । খেয়ে চোখে মুখে জল এসে গেছে ।


ওদিকে শ্রাবনীর মা মেয়ের মাথায় হাত রেখে বলল কিরে কি হয়েছে ?
আর শ্রাবণী চোখের জলটা মুছতে মুছতে বলল….
চাওমিন টা খুব গরম মা । মুখে দেওয়ার সাথে জিভটা পুড়ে গেছে।


তাই তোমাদের একটা কথা বলে রাখি- চোখে জল আসার কারণটা টক-ঝাল বা গরমের জন্য নয় ‌ । এগুলো ছিল খুশির জল। যে খুশির কারন প্রিয় মানুষের ভালোবাসা পাওয়া । এভাবে বেঁচে থাকুক ভালোবাসা

আমাদের কাছে আসার গল্প bangla choto golpo টি কেমন লেগেছে অবশ্যই নিচে কমেন্ট করে জানাবেন ।

read more post – রাগী বান্ধবী যখন বউ || A bangla Romantic Love Story 2021

গল্প টি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন

Leave a Comment