খালাতো বোন যখন বউ রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প 2022

খালাতো বোন যখন বউ রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প

হ্যালো বন্ধুরা আমাদের chhota golpo ওয়েবসাইডে আপনাদেরকে স্বাগতম । আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে খালাতো বোন যখন বউ রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প । এই গল্পটা জানতে পারবেন কিভাবে খালাতো বোন যখন গ্রামের হবু বউ সাজার অভিনয় করে আমাকে পটিয়েছি ।

আমাদের সাইটে আপনারা পেয়ে যাবেন চাচাতো , মামাতো, খালাতো বোন যখন বউ রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প তো আমাদের সঙ্গে থাকুন ।

প্রথমেই বলে দিই আমার নাম ইসমাইল আর আমার খালাতো বোন এর নাম ফতেমা । আজকের গল্পটি শেষ পর্যন্ত পড়বে আর অবশ্যই নিচে কমেন্ট করে জানাবেন কেমন হয়েছে আজকের পর্ব টি ।

খালাতো বোন যখন বউ রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প,খালাতো বোন যখন বউ,খালাতো বোন যখন হবু বউ,খালাতো বোন ,খালাতো বোন যখন গ্রামের বউ
খালাতো বোন যখন বউ রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প

সন্ধ্যা সাতটা বাজে আজকে শুক্রবার বলে অফিস অফ ডে গার্মেন্টে চাকরি করে তাদের অনেকেই মুসলিম তাই তাদের শুক্রবারের জুম্মার মসজিদে পড়ার জন্য বন্ধ থাকে।

ঘুম থেকে উঠে বিকেল বেলা একটু বাইরে হাঁটতে আসলাম।
সারা সপ্তাহে এই একটিমাত্র দিন সবাই মিলে একসাথে আড্ডা দেওয়ার সময় পায় তাই এখন রুমে ফিরছি ।

রাতের খাবারটা রেডি করতে হবে আজকে আমায় কিছু দূর যাওয়ার পর লক্ষ্য করলাম যে যেন কে আমায় ফলো করছে। চারদিকটা হালকা অন্ধকার হয়ে নেমে এসেছে তাই ঠিকমত তাকে দেখতে পাচ্ছি না।

কিছুতে যাওয়ার পর ল্যাম্পপোস্টের আলোতে পথে ফিরে তাকালাম দেখলাম একটা মেয়ে বয়স সম্ভবত 20 থেকে 21 আমার মতই হবে । একটা ব্যাগ হাতে নিয়ে আমার পিছন পিছন আসতেছে । আমি থেমে গেলাম সোজা মেয়েটার সামনে গিয়ে বললাম….


ইসকিউজ মি আপনি কি আমায় কিছু বলবেন ‌ ।
মেয়েটা কোন সাড়াশব্দ করছে না চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে আমি আবারও তাকে জিজ্ঞাস করলাম …

খালাতো বোন যখন বউ

কি হলো কিছু বলবেন !
মেয়েটা তখন হ্যা সূচক মাথা নাড়ালো । আমিও বললাম….
বলুন কি বলতে চান আমাকে?


তখন মেয়েটা বলল আমার অনেক পিপাসা পেয়েছে একটু পানির ব্যবস্থা করে দেবেন প্লিজ তারপর আমি আপনাকে সব বলছি । আপনার নাম ইসমাইল তাই না ?


আমি একথা শুনেতো অবাক! এই মেয়ে তো আমার নাম জানি কিন্তু আমি তাকে কখনো দেখেছি বলে তো মনে পড়ছে না।
তখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম আপনি আমার নাম জানলেন কি করে?


মেয়েটা মুচকি হেসে বলল সেটা না হয় আপনাকে পরে বলি এখন আমার বহুৎ তেষ্টা পেয়েছে তো আপনি একটু পানি খাওয়ান প্লিজ ।
পাশে একটা ঝাল মুড়ির দোকান থেকে ওনাকে পানি দিলাম আর 2 ঠোঙ্গা ঝাল মুড়ি নিলাম ।


কি যেন বলতে চাইছিলেন আপনি?
মেয়েটা তখন বলতে শুরু করল । একজনের খোঁজে এখানে এসে এসেছে । কিন্তু কলকাতা শহরে নতুন তাই কিছু চেনেনা । অনেক কথা হলো মেয়েটা আমার সাথে কিন্তু একটা কথা আমার একদমই চমকে দিলো । মেয়েটা বলল…


কয়েকটা দিন আপনার সাথে থাকার জায়গা হবে আমার?
কয়কি এ মেয়েটা ! কোন এক অচেনা মেয়ে থাকবে আমার সাথে !
আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন ? নাকি মাথা ঠিক আছে তো ? আমি একটা বেচেলার ছেলে । আর আপনি একটা যুবতী মেয়ে থাকবেন আমার সাথে ।
এরপর মেয়েটা যা বলল তা শুনে আমি আরো চমকে গেলাম ,


আপনি নিজের প্রতি আস্থা রাখতে পারবেন না ?আমি পুরোপুরি বিশ্বাস করি আপনার পাশে থাকবো ।
ওই মেয়েটার কথা আমাকে মুগ্ধ করে তুলেছে । আমি এবার পুরোপুরি ভাবে মেয়েটার দিকে তাকালাম । তার মায়াবী চেহারা ফর্সা আর ডাগর ডাগর চোখ । মেয়েটাকে কোথায় যেন দেখেছি মনে হচ্ছে । না মনে করতে পারছিনা ।


আপনি এত কিছু ভাবছেন কেন এত টুকু সাহায্য করুন আমায় প্লিজ?
তাকে আর কিছু বলতে পারলাম না মেয়েটাকে নিয়ে সোজা চলে গেলাম আমার রুমে । রাতের রান্না টা আজকের বেশি করা লাগবে । বাসায় বসে ফোনটা ঘাটতে আছে আর মনে মনে ভাবছে যেটা করছে সেটা কি ঠিক হচ্ছে ?

খালাতো বোন যখন হবু বউ

তারপর কিছুক্ষণ পর দেখলাম মেয়েটা রান্না করার জন্য কিচেনে গেল । যাক আমার কাজের কিছুটা অবসান হচ্ছে রান্না করার পর দুজনে একসাথে খেয়ে নিলাম ।


মনের মাঝে একটা সংকোচ কাজ করতে লাগলো । একই ঘরে দুজন অপরিচিত যুবক-যুবতী আছে। তাছাড়া আমি এমনই মেয়েদের সাথে কথা বলতে সংকোচ বোধ করি ।


আচ্ছা আপনি কতদিন থাকবেন আমার এখানে ?
কথাটা শোনার পর মেয়েটা আমার দিকে তাকালো । আমি আবার সংকোচের মধ্যে পড়লাম । কেউ আমার দিকে তাকিয়ে থাকলে আমি নিজেকে খুব বেশি বোরিং ফিল করি । মেয়েটা আমার কথায় উত্তর দিল ,


কেন ?আপনি কি খুব বেশি সমস্যায় পড়ে গেছেন?
না আসলে , সেটা না । এমনি জিজ্ঞেস করছিলাম আপনার নামটা তো জানা হয়নি তাই না?
ওহ তাইতো আমার নাম সুলতানা ।


এই করতে করতে মেয়েটার সাথে অনেকটা ফ্রি হলাম রাতে খাওয়ার পর এখন শোয়ার পালা ।
ঢাকায় থাকতাম বলে সিঙ্গেল বিছানায় শুতাম । মেয়েটাকে বিছানায় শুতে বলে আমি মেঝেতে বিছানা করে শুয়ে পড়লাম ।


তখন মেয়েটার সাথে টুকটাক গল্প হচ্ছে শোনাতে থাকলেও তার জীবনের কাহিনী । মেয়েটা একপর্যায়ে এমন কথা শুনে আমি আবার বিদ্যুতের মতো খেলাম । মেয়েটা বলল…..

আমি আপনাকে একটা কথা বলি রাখবেন?
কি কথা বলেন?
ওয়াদা করেন কথাটা রাখবেন?
ওয়াদা করছি কথাটা রাখবো?


আপনাকে আমার সাথে স্বামী স্ত্রীর অভিনয় করতে হবে।
হোয়াট কি বলেন এইসব ? আপনার মাথা ঠিক আছে তো!
প্লীজ রাগ করবেন না । এটা আমার জীবন মরণের খেলা । আপনি সহযোগিতা করলে আমি জয়ী হবো ।


জীবন মরণের খেলা মানে আমি কিছু বুঝলাম না?
আপনাকে সব কিছু পরে বলব। আপনার পায়ে ধরি আপনি না করবেন না প্লিজ।

আরে আরে আপনি কি করছেন ছাড়ুন বলছি । ঠিক আছে আমি এতে রাজি ।
আপনাকে থ্যাংকস । আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ ।

তাহলে আমাকে কি করতে হবে ?
আপনি শুধুমাত্র আমার সাথে স্বামীর অভিনয় করবেন । আমি আপনার খালাতো বোন যখন গ্রামের বউ ‌ । কালকে আমরা গ্রামে যাবো ।

মনে মনে ভাবছি । কি হচ্ছে আমার সাথে এসব । অনেক দিন ধরে কলকাতায় আছে কমপক্ষে 7 বছর ধরে বাসা থেকে রাগ করে চলে এসেছিলাম । এক বড় ভাইয়ের সাথে আগে টুকটাক কাজ করতাম । এখন গার্মেন্টসে চাকরি করি ।

চোখে আমার অনেক ঘুম চলে আসলো ঘুমাতে হবে । কালকে অনেক কাজ অফিস থেকে ছুটি নিয়ে আসতে হবে । মেয়েটার সাথে আবার গ্রামে যেতে হবে । আল্লাহ জানে মেয়েটা আমার কোন ভাবে ফাঁসাতে চাইছে কি না কে জানে । কপালে যা আছে তাই হবে । এই ভেবে ঘুমিয়ে পড়লাম ।

সকালবেলা ঘুম ভাঙলো কিসের যেন শব্দে । দেখলাম মেয়েটা ব্যাগ গোছাচ্ছে। আমি জেগে উঠতেই আমাকে উদ্দেশ্য করে বলল…
আজকের বেলা অনেক হয়েছে ঘুম এখনো ভাঙেনি বুঝি ।

আমি উনাকে কিছু আর বললাম না । চুপচাপ উঠে চলে গেলাম ‌। ফ্রেশ হওয়ার জন্য ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করতে বসলাম দুজনে । আমি তখন মেয়েটাকে বললাম –


তাহলে কি আমরা আজকে গ্রামে যাচ্ছি?
হুমম ! কেন যেতে ইচ্ছে করছে না আপনার?
না, আসলে সেটা বলছি না আপনাকে । আমাকে একটু অফিসে যেতে হবে ছুটি নেওয়ার জন্য ।


তবে ঠিক আছে । আমি রেডি হই আপনি ছুটি নিয়ে আসেন ।
আমরা কোন গ্রামে যাবো? টিকিট কেটে নিতে হবে যে ।
মুর্শিদাবাদ জেলা সাগরদীঘি থানা টিকিট কাটবেন ।
সাগরদিঘী ? ওখানে তো আমার খালাতো বোন এর বাসা ।


তাই নাকি? তাহলে তো ভালই হবে ,জান তাড়াতাড়ি।
অফিস নিয়ে ছুটি নিয়ে তাড়াতাড়ি বাসায় ফেরা বাসায় গিয়ে রেডি হয়ে নিলাম । আল্লাহ ভরসা কি হয় কপালে যা আছে তাই হবে । আমার কারণে যদি একটা মেয়ের উপকার হয় তাহলে আমার কোন আপত্তি নেই ।


কি হলো এখন আপনার কি হয়েছে?
এই তো আছি আপনি একটু দাঁড়ান?
একি ! আপনি শাড়ী পরলেন যে॥
শাড়ি না পড়লে বউ বানাবে কি করে !


আমি মেয়েটাকে যতই দেখি ততই মুগ্ধ হই । অদ্ভুত রকমের কথা বলে মেয়েটা। বলতে বলতে বাইরে বের হয়ে গেলাম অফিস থেকে ফেরার পথে দুটো টিকিট নিয়ে এসেছিলাম ।


আমরা এখন গাড়িতে যেতে হবে প্রায় দু’শো কিলোমিটার মত।দুজনে পাশাপাশি দুটো সিটে বসে আছে । মেয়েটার দিকে আড়াল চোখে তাকালাম কোন ভয়ের ছাপ নেই । মনে হয় না কোন বিপদে পড়েছে ।


আমি মেয়েটাকে যতই দেখছি ততই অদ্ভুত একটা রহস্যের গন্ধ পাচ্ছি । আমাদের ডান পাশে বাম পাশের সিটে একজন বৃদ্ধা বসেছে । তখন থেকে বকবক করে চলেছে রসিকতা করছে । তখন অনেকের সাথে আমাদের উদ্দেশ্য করে বলল…,


কে বেটা ! কতদিন হলো বিয়ে করার?
আমি তখন ওই লোকটাকে কি বলবো ভাবতে পারছিনা হয়েছিলাম মেয়েটা তখন বলল,
একমাস হয়েছে চাচা?


বা চালিয়ে যাও ফুলটুসি বর কি কম কথা বলে নাকি তোমার?
জি উনি অনেক কম কথা বলেন?
আমি ওই মেয়েটার কথাটা শুনে মেয়েটার দিকে তাকালাম । চোখাচোখি হতেই মেয়েটা জিভে কামড় দিলো । আমি কিছু বললাম না । জানার হালকা বাতাসে চরম শান্তিতে চোখটা আরামে বুঝে গেল…

খালাতো বোন যখন গ্রামের বউ


ঘুমটা ভেঙে গেল হালকা ঝাকিতে চোখটা খুলে আমার কাঁধে কারো অস্তিত্ত টের পেলাম দেখলাম । মেয়েটা ঘুমিয়ে আছে । কি নিষ্পাপ চেহারা । মনে হচ্ছে খুব চেনা ফেস ।


একদম আমার গায়ের সাথে মিশে গেছে । আমি তার দেহের উষ্ণতা টের পাচ্ছি । আমার ভেতরের অনুভূতি জাগ্রত হওয়ার চেষ্টা করছে । মেয়েটাকে সরিয়ে দিলাম যাতে ভালোভাবে মাথাটা বসিয়ে…


প্রায় পাঁচ ঘণ্টা জার্নি করার পর গাড়ীটা আইসা থামলো সাগর দিঘিতে । তখন রাত্রি নটা বাসটা থেকে নেমে গেলাম মেয়েটা এখনো ঘুমিয়ে আছো না আমি আস্তে করে ডাক দিলাম…


এই যে মিস … আমরা এসে গেছি এবার নামতে হবে ।
মেয়েটা ঘুম থেকে উঠে তার কাপড় চোপড় ঠিক করে নিল । তারপর বললো…
আমরা চলে এসেছি ঠিক আছে চলুন নামা যাক।


আমরা নামার পর থেকেই মেয়েটা কি যেন খুঁজতেছে । এদিক ওদিক তাকাচ্ছে ।
আপনি কি কিছু খুঁজতেছেন?


উমমম …! না না কিছু না রাত হয়েছে তো চলুন রিক্সা করে উঠি ।
আমি যতদূর জানি এখানে রিক্সা নেই । এটা গ্রাম্য এলাকা এখানে অটো সিএনজিতে করে যেতে হয় ।


বাহ আপনি তো দেখি ভালই জানেন?
হুমম বহু বার এসেছি আমার খালাতো বোন এর বাসায় ।

আচ্ছা তো আপনার খালাতো বোন এর বাসা টা কোথায় ?
প্রায় সাত বছর আগেকার কথা মাথাটা কি আর আগের মত থাকবে । ভুলে গেছি শুধু এটুকু মনে আছে যে যেদিকে যেতে হবে ।


হুমম…. আমরা এখন ঔদিক দিয়ে যাব ।
মানে কি বলেন আপনার বাসা কি ওইদিকেই নাকি ?
হুমমম …


আমার মাথায় কিছু ঢুকছে না । কি থেকে কি হয়ে যাচ্ছে শুধু আল্লাহ জানে । অটোতে করে যাচ্ছি অন্ধকারে কিছুই চিনতে পারছিনা । গ্রাম টা একটা সম্পূর্ণ বদলে গেছে সেই সাত আট বছর আগে আমি খালাতো বোন দের বাসায় এসে ছিলাম । কেমন ছিল আর এখন পুরোটা বদলে গেছে ।

আপনাদের গ্রামটা পুরো পাল্টে গেছে।
হুমমম , সময়ের সাথে সাথে সব কিছু পাল্টে যায় যেমন আপনি পাল্টে গেছেন ।


মানে কি ! আপনি কি আমায় আগে দেখেছিলেন?
না,ইয়ে মানে ! আপনি নিশ্চয় আগে এরকম ছিলেন না । বয়স হয়েছে তাই এখন আলাদা হয়েছেন । তাই না কি বলেন?


আমার অনেক অদ্ভুত লাগছে মেয়ে তার কথাবার্তা । শুনে আমি আবারও তাকে বললাম,
আচ্ছা আমি যে যাচ্ছি আপনাদের বাসায় আপনাদের বাসায় গিয়ে আমার কাজ কি?


আপনার কোন কাজ নেই । আপনি শুধু আমার বরের অভিনয় করবেন । আমি আপনার বউ । ব্যাস এটুকুই কাজ ।
কিন্তু এসব করে আপনার লাভ কী ?
আমার লাভ না আপনারই লাভ ।


মানে আমি কিছু বুঝলাম না?
না কিছু না । আমরা এসে গেছি । নামুন প্লিজ ।
আমি মেয়েটার কথা যতই শুনি ততই বড় অদ্ভুত লাগছে নিজেকে কথাটা শুনে মনে হচ্ছে । মেয়েটা কি যেন লুকাচ্ছে আমার কাছ থেকে । অটো থেকে নেমে পড়লাম । অন্ধকারে বাসাটা ঠিক মতন দেখতে পাওয়া গেল না ।


মেয়েটা বাসার গেট টাতে একটা টোকা দিল । ভিতর থেকে একজন ভদ্রমহিলা গেটটা খুললো তারপর বলল…
তোরা এসেছিস আয় ভিতরে আয়।


আশ্চর্য মহিলাটা এত স্বাভাবিক ভাবে কথাটা বলল । মনে হচ্ছে কিছুই হয়নি আজব সব মানুষেরা । মেয়েটা বললো ,
আপনি এত কি ভাবছেন চলুন ভিতরে চলুন ।


আমি ভেতরে গিয়ে ভদ্রমহিলাকে সালাম দিলাম । আসল আর নকল হোক শাশুড়ি বলে কথা । মহিলা আমার সালাম নিলেন । বাসাটাও অন্ধকার । আমি মেয়েটাকে বললাম…
আচ্ছা আপনার বাসায়…


সসসসস !!… তুমি করে বলুন বউকে কেউ আপনি করে বলে !
এ মানে তোমাদের বাসায় কি বিদ্যুৎ নেই ।
হুম আছে তো ।


ও তুমি বুঝবে না । বাইরের বাতির সব অফ করা আছে একটা কারণে ।
তারপর আমরা একটা ঘরে গিয়ে ঢুকলাম । ঘরে বাতি জ্বালানো আছে ।

মেয়েটা ঘরে পানি নিয়ে আসলো আমার মুখ হাত ধোয়ার জন্য ।
আচ্ছা আপনার বাসায় কি আর কেউ নেই ?
আছেন অনেকেই কিন্তু …
তাহলে বাসাটা খালি খালি কেন লাগছে ?


আজকে তুমি বিশ্রাম করো কালকে সকালে সবাই কে থাকতে হবে ।
আচ্ছা ! আমাকে এখানে কতদিন থাকতে হবে ?
তখন মেয়েটা একটু মুচকি হেসে বলল শশুর বাড়ি কি কেউ হিসাব করে থাকে?


কিছুক্ষণ পর মেয়েটা আমার জন্য খাবার নিয়ে আসলো । পেটে অনেক খোদা আগে খেয়ে নেই তারপর দেখা যাবে ।
খাওয়া-দাওয়া সেরে এবার আমাদের ঘুমোনোর পালা। আমি শুয়ে আছি আর মেয়েটা আমার পাশে বিছানায় বসে আছে । মেয়েটা মনে মনে হাসতেছে ,
হাসছেন কেন কি হয়েছে?


আমি সাকসেস হয়েছি তাই হাসছি?
আপনাদের পরিবারের সদস্যরা সবাই কি অদ্ভুত?
কেন কি হয়েছে?
এই যে আপনি আমায় নিয়ে বাসায় ঢুকলেন কারো কোনো আপত্তি হলো না!
হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ ! আমরা অদ্ভুত ফ্যামিলির মানুষ কালকে সকালে আপনার জন্য একটা সারপ্রাইজ অপেক্ষা করতেছে ।


আমার আবার কিসের সারপ্রাইজ বলেন ‌।
সকাল হলেই আপনি দেখতে পাবেন।
তারপর মেয়েটা আমাকে গল্প শোনাতে লাগলো । আমার সাথে এমন আচরণ করছে যেন সত্যিই আমার বউ । হাতে নেড়ে নেড়ে গল্প শোনাচ্ছে । হঠাৎ করে আমার চোখটা চলে গেল আর ঘরের দেওয়ালে ।


সেখানে একটা ছবি টাঙানো । বিদ্যুৎ শক খেলে যেমন হয় তার থেকেও বেশি অনুভব করলাম । আমি শোয়া ছেড়ে উঠে পড়লাম । আমার ওটা দেখে মেয়েটি আমায় বলল ….
আপনি উটছেন কেন কি হয়েছে ?
ওই ছবিটা এখানে কেন?


মেয়েটা আমার কথা শোনার পর কিভাবে কামড় দিয়ে মুখটা ঘুরিয়ে ফেললো …
কি হলো বলুন !
মেয়েটা তখন আর কিছু বলছে না । আমি পিছনে পিঠ থেকে ওর ব্লাউজ টা একটু তুলতে লাগলাম । মেয়েটা লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে আছে…

(হ্যালো বন্ধুরা এখানে খারাপ কিছু মনে করবেন না এখানে রহস্য লুকিয়ে আছে ।)

আমি মেয়েদের ব্লাউজ টা পিছন থেকে হালকা ভাবে তুলতে লাগলাম । কিছুটা তুলেই আমি সেই দাগটা দেখতে পেলাম । আর কোন কথা না বলে ওকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বললাম..…


ফতেমা তুই আমার খালাতো বোন । আর তুই নাকি বলছিস আমার খালাতো বোন যখন গ্রামের বউ এর অভিনয় করার জন্য ।
ও কোন আর কথা বলছে না। কাঁদতে শুরু করেছে‌ । মুখটা ওইদিকে ঘুড়ে আছে ।


আগে বলিস নি কেন যে, তুই ফতেমা ?
ও অনেক কাঁদতে কাঁদতে অভিমানী কন্ঠে বলল,
হুহ ॥ মানুষ এত স্বার্থপর হয় আগে জানতাম না আমাকে তুই ভুলে গেলে কি করে ?


সরি রে ! আমার খালাতো বোন টা যে এত বড় হয়ে গেছিস তা আমার ধারনার বাইরে । সাত বছরের তুই আর আজকের তুই অনেকটা পরিবর্তন হয়ে গেছিস ।


আমিতো তোকে ভালো করে চিনতে পেরেছি যে তুই আমার খালাতো ভাই
আমি তো জানতাম ছোটবেলা থেকেই তোর স্মৃতি শক্তি আমার থেকে বেশি তাই তুই চিনতে পেরেছিস আমাকে ।


আচ্ছা ! যে মেয়েটা দরজাটা খুলে ছিল ওটা কে তাহলে খালা ছিলো ?
খালাতো বোন আমাকে কিল ঘুষি মারতে মারতে বললো …
কুত্তা ,বিড়াল, ছাগল কোথাকার নিজের খালার কন্ঠ চিনতে পারিস না ।
খালা আর খালাতো বোন আমার কত চালাক মাইরি, বাইরে আলো বন্ধ ছিল কেন?


হুম , তোর সাথে কেমন গেইমটাই খেললাম । আরো অনেক কিছু করতে চেয়েছিলাম । কিন্তু ওই ছবিটা সব প্লান নষ্ট করে দিলো ।
আমি আমার খালাতো বোন কে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে ওর গলার সাথে আমার গলা ঘষতে লাগলাম । ও চোখ বন্ধ করে আছে। তখন আমি বললাম …


তুই আসলে খুবই চালাক মেয়ে কত বুদ্ধি তোর । আমাকে ফিরিয়ে আনলে তুই খালাতো বোন যখন গ্রামের বউ এর অভিনয় করলি ।
ইসমাইল ছার আমার আম্মু তো জানে যে আমরা স্বামী-স্ত্রী না । আমাকে অন্য ঘরে ঘুমাতে হবে ।


ঠিক আছে যা তবে খালাকে পাঠিয়ে দিস। অনেকদিন দেখিনি।
ঠিক আছে তবে?
কিছুক্ষণ পর খালা আসলো আমার রুমে । এসেই আমায় জড়িয়ে ধরে আদর করতে লাগলো আরো কিছু কথা বলে খালা চলে গেলো ।

আপনারা হয়তো এতক্ষণে বুঝে গেছেন যে আমার বউয়ের অভিনয় করছিল । সে আর কেউ নয় আমার খালাতো বোন যখন বউ । ওর নাম ফাতেমা অনেক বুদ্ধিমতী মেয়ে।


পালান করে আমার খালাতো বোন যখন হবু বউ সেজে আমাকে নিয়ে আসলো । আর আমি ওকে চিনতে পারিনি এতটাই বড় ব্যর্থতা । কিছুক্ষণ পর সে আবার রুমে আসলো।
কিরে আবার রুমে আসলি জে ।


মা আমাকে এই রুমে শুতে বললো । খালাতো বোন নিচে শোবো আর আমি ওপরে থাক ।
তুই আমার সাথে থাকবি? ভয় করে না?
তোকে আমি ছোটবেলা থেকে চিনি । তাই তোকে দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই । তুই কিছু করলে আমায় যখন একা পেয়েছিলি তখনই করতিস।


তুই আমাকে অত বড় শহরে খুঁজে পেলে কি করে রে?
আমি তোর ঠিকানা দিয়েছিলাম রাসেল ভাইয়ের কাছে ‌। রাস্তায় দেখা না হলে সোজা তোর বাসায় যেতাম ।
হুমম । ওকে এখন ঘুমোতে দে ।

খালাতো বোন

ঠিক আছে তুমি তবে ঘুমা ‌।
কি থেকে কি হলো ভাবছিলাম । কি আর কী হলো এইসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পরলাম । ঘুমটা ভেঙে গেল কারো হাতের ছোঁয়ায় সম্ভবত সকাল হয়েছে ।


চোখটা খুলতেই যা দেখলাম। দেখলাম আমার মায়ের হাত বুলিয়ে দিচ্ছে সাত বছর পর মায়ের মুখ দেখছি আমি উঠতে মা কাঁদতে কাঁদতে আমায় জড়িয়ে ধরলো । তারপর বলল …


তোর এত রাগ রে খোকা সবাইকে ছেড়ে তুই একটা নয় সাত -সাতটা বছর কাটিয়ে দিতে পারলি আমাকে ছেড়ে ।
আমি মাকে কিছু বলতে পারলাম না । চোখে কখন পানি এসে গেছে ভাবতেই পারিনি । পিছনে দেখতে পেলাম বাবা ও দাঁড়িয়ে আছে ।


বাবার সাথে রাগ করে সেদিন বাসা থেকে চলে গিয়েছিলাম । সোজা গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরলাম ।

কিরে খোকা !! তোর বাবা না হয় ভুল করে তোকে মেরেছিল বাবারা তোমার মারলেও আদর করতে দেরী করে না । তুই যেদিন আমাকে আদর করার সুযোগ দিলিনা !


আপনজনদের কাছে পেয়ে আমার মুখ দিয়ে কোন কথা বের হল না শুধু কান্না বের হচ্ছে । পিছনে তাকিয়ে দেখলাম ছোট বোনটাও কাঁদছে ।
আমার সেই ছোট্ট বোনটাও আজ কত বড় হয়ে গেছে গো। ওর কাছে যেতেই অভিমানে মুখ ফিরিয়ে নিলো, তারপর বললো…


যে আমায় ছেড়ে অনেক দূরে চলে যেতে পারে সে আমার ভাইয়া হতে পারে না।
কথাটা শোনার পর বোনটাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলাম তারপর কান্না জড়িত কন্ঠে বললাম —,


সরি রে আপু ক্ষমা করে দে আমায় আর কোনদিন তোকে ছেড়ে যাবো না ।

তারপরে আমি ফ্রেশ হয়ে আসলাম কিছুক্ষণ পর খালাতো বোন ফতেমা আমার খাবার নিয়ে আসলো । আমি খাচ্ছি আর ফাতেমার দিকে তাকিয়ে আছি । ও আমায় ইসারায় বলতেছে কি দেখো?
আমি ওকে কাছে ডাকলাম ও কাছে আসলো । আমি ওর কানে কানে বললাম…


তুই আমার সত্যিকারে খালাতো বোন যখন বউ হবি ?
সে কোন কথা বলছে না লজ্জায় মুখ লাল হয়ে আছে আমি আবার বললাম ।
কিরে আমার বউ হবি ? সত্তিকারের ?
তোর জন্যই তো আমি এতদিন অপেক্ষা করেছি । নইলে এতদিন কবে আমার বিয়ে হয়ে যেতো ।


এই কথাটা বলে খালাতো বোন যখন বউ আমার দৌড়ে চলে গেল । সাত বছরে টাকা ভালোই জমেছে বিয়েটা করেই ফেলি ।
পারিবারিক আলোচনা সাপেক্ষে বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করা হলো আপনাদের দাওয়াত দিব না কিন্তু !

               বাসর রাতে....

কি হলো তুই বালিশ নিয়ে কোথায় যাস ।
কেন নিচে শোবো না?
থাপ্পর দিব একটা পাগলী কোথাকার তুই জানিস না আমি এখন তোর সত্তিকারের খালাতো বোন বউ ‌।
ওরে বাবা । কোন বউ রে বাবা বাসর রাতে এত ঝারি । না জানি পরে কি হতে পারে।

খালাতো বোন যখন বউ রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প টি এখানে শেষ করলাম। আমাদের আজকের খালাতো বোন যখন বউ রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প টি আপনাদের কেমন লেগেছে অবশ্যই নিচের কমেন্ট করে জানাবেন । আর নিয়মিত এরকম গল্প পেতে আমাদের সাথে থাকবে।

গল্প টি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন

Leave a Comment