EK NEW Short Love Story Bangla – শালী যখন বউ 2022

Ajker Alochonar Bisoy Hochhe Ek new short love story bangla – শালী যখন বউ 2022 . Ei short love story in bengali te upnara jante parbe je . কলেজ লাইফে জমজ বোনের মধ্যে বড় বোন কে ভালোবাসে কিন্তু বড় বোন কে বিয়ে করতে যেয়ে ছোট বোন কে বিয়ে করে কিন্তু এই গল্পতে অনেক রহস্য তো কিভাবে শালী যখন বউ হল । To bondhura dekhte thakun ajker short love story bangla chhota golpo ti .

শালী যখন বউ

আমার স্বামীর রোহিত আমাকে অনেক বেশি ভালোবাসে না না আমি ভুল বললাম আমাকে নয় নিশাকে । তবে এতো ভালোবাসা আমাকে শাস্তি দেয় না বরং আমার বুকটা পুড়ে ছারখার করে দিচ্ছে । যতবার আমাকে নিশা বলে ডাকে মনে হয় বুকের ভিতরটা কেউ ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করছে । তবুও নিজেকে মনে মনে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছি ।

কারণ শুভ যাকে ভালোবাসে আমি সেই নেশা নয় তার ছোট বোন তিশা আমাদের বিয়ের এক বছর পূর্ণ হয়েছে কিছুদিন আগে বেশ জামজমক ভাবে পালন করেছে বিবাহবার্ষিকী । এই এক বছরে এমন আমাকে কখনো কোনো রকম অভিযোগ করার সুযোগ দেয়নি কারন সে অনেক বেশি ভালোবাসে নিশা কে । ( Short Love Story Bangla )


নিশার আমি জমজ বোন আমার দুই মিনিটের বড় তবে তাকে আচরণে সবাই বলতো দুই মিনিট না আমার থেকে অনেকটা বড় । সে কারন নিশা যদি পানি হয় তাহলে আমি ছিলাম আগুন । দুজনে সব ছিল সম্পূর্ণ আলাদা নিশা ছিল একদম শান্ত পাখিদের আর আমি ছিলাম প্রচন্ড চঞ্চল পাখির একটি মেয়ে ।

আমি যতই অকাজ কুকাজ করতাম সবকিছুই থেকে ও আমাকে বাঁচাতে ও ছিল খুব ভালো আর আমি হিংসুটে তবে দুজনেই ছিলাম অন্তত সুন্দরী । একদিন আমি রুমে এসে দেখি নি সা ফোনের দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে আমি কিছু সময় ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে থেকে তাকে বললাম…..

এই নিশা তুই ফোনের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে এত হাসছিস কেন ?
এই শোন আমি তোকে বলেছিনা আমাকে আব্বু বলে ডাকবি কখনো আমার নাম ধরে ডাকবি না । ( Short Love Story Bangla )


অফ আইছেরে আমার বড় মাত্র দুই মিনিটের বড় হয়ে আইছে সম্মান নিতে যা ভাগ এখান থেকে।
তুই এখন ভাগে রুম থেকে আমি আগে থেকেই ছিলাম এখানে তুই তো এইমাত্র এলি।
আমি ওর কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়লাম তুই যা পারিস করে নিস আমি এখান থেকে যাব না।


যা আর ঝগড়া করার মুড নেই তাই কিছু বললাম না তুই এখন বল এত হাসলে কেন রে?
কিছু না এমনিতেই?
তুই কি আমাকে বলবে না আমি না তোর বোন?
আচ্ছা মা-বাবাকে বলবে না কিন্তু!
ওকে বলবো না এবার তো বল!

Short Love Story Bangla

Short Love Story Bangla, শালী যখন বউ, Short Love Story Bengali, Short Love Story In Bengali,
Short Love Story Bangla


তখন নিশা আমাকে একটা মেসেজ দেখা দাও যেটা রোহিত নামের কেউ পাঠিয়েছে।
আমি চাইনা নাটোরের মত সেই বনলতা সেন কাদম্বিনী মধুরতা কাউকে চাইনা আমার আমার চাই তোমার ঠোঁটের কোণে একটু মিষ্টি হাসি যেখানে আমি নিজেকে খুঁজতে চাই ঘুম কারা ঐ ঠোঁটের হাসিতে !


আরে আরে এই ছবি কোথায় পেলি বল তোর দিদি?
সে আমার পাচারের প্রিমিয়ার ভার্সিটিতে!
তুই অনার্সে প্রথম বর্ষ মানে এবার মাস্টারি পড়বি ।
হুম ।( Short Love Story Bangla )


নিশার আমি দুজনে আলাদা আলাদা ইউনিভার্সিটিতে পড়ি কারন নেশা পড়াশোনায় মনোযোগী তাই সে কলকাতা যাদবপুর ইউনিভার্সিটি তে চান্স পেয়েছে আর আমি একটা প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়ি আমি তাকে বললাম…
তোয়ে তোকে এইসব মেসেজ কেন দিচ্ছে রে।


ভার্সিটির ফাংশনে একদিন দেখা হয়েছিল তারপর থেকে এমন করছে একজনকে দিয়ে সে আমাকে জানিয়েছে এসে আমাকে ভালবাসে আর তার থেকে নাম্বারটা নিয়েছি আমার ।
আরে বাদ দে এগুলো সব ফাউল ছেলে । ( Short Love Story Bangla )


একদম না ওনার ডিপার্টমেন্টের তো পারোনি আর ওকে দেখতেও সেই লাগে আমার আমিও তাকে মনে মনে পছন্দ করি কিন্তু কখনও তাকে বলিনি ।
মামা অনে বলা হচ্ছে তোমরা তো দেখছি প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিস।
তুই একবার দেখলে তো তাই করতে করবি ।


আমাকে দিয়ে ভাই ওই সব প্রেম ভালোবাসা হবে না ।
আমার মুখ বন্ধ করার আগেই নেশা রোহিতের একটা ছবি বের করে আমার সামনে ধরল আমি মুখ বন্ধ করে হা করে তাকিয়ে থাকলাম। সে তার দিকে এত সুন্দর ছেলে হয় নাকি নিশা দিকে তাকিয়ে দেখলাম আমার অবস্থা মিটিমিটি হাসছে। আমি লাফ দিয়ে উঠে বসে বললাম… ( Short Love Story Bangla )


তুহি হ্যাঁ না বললে আমাকে বল আমি প্রেম করবো ওর সাথে ।
আরে এমন ছেলে থাকলে শুধু প্রেম-ভালোবাসা কেন বিয়ে বাচ্চাও সবকিছুই সম্ভব ।
আহারে আমি হ্যাঁ বলে দিয়েছি কারণ আমি ওনাকে ভালোবেসে ফেলেছি আর তুই সব সময় আমার পছন্দের জিনিস নিয়ে যাস ওনাকে আমি দিতে পারবো না । একদম নজর দিবি না ওনার দিকে বুঝেছিস তুই ।


তুই ভয় পাস না আমি নেবো না তোর ওনাকে ।
নিশা এক কাপ কফি দিয়ে যাও তো মাথাটা অনেক ধরে আছে ।
রোহিতের এই ডাকে আমি অতীত থেকে বের হয়ে এলাম ভালোই তো ছিলাম এইভাবে সব এলোমেলো কেন হয়ে গেল । নিশা আর রোহিতের প্রেম তো ভালই চলছিল আর আমি মাঝে মাঝে নিশা সেজে রোহিতের সাথে দুষ্টুমি করতাম । রহিত না জানতোনা যে নিশার একটা জমজ বোন আছে এসব বলেছিল বিয়ের দিন তোমাকে একটা সারপ্রাইজ দেবো ।

Short Love Story Bengali


এই নিশা কোথায় গেলে তুমি শুনছো?
চোখের পানি মুছে হাতে থাকা নিজের ছবিটা লুকিয়ে রেখে গলা পরিষ্কার করে তাকে বললাম…
হ্যাঁ আমি আসছি তুমি একটু অপেক্ষা করো।


তাড়াতাড়ি কিচেনে গিয়ে কড়া করে এক কাপ কফি বানিয়ে নিয়ে রুমে এলাম অফিস থেকে ক্লান্ত হয়ে এসে রোহিত সাটিন খুলে দিয়েছে তাই খোলা চুল এলোমেলো ফর্সা মুখটা বড্ড ক্লান্ত লাগছে তাই রোহিতের পাশে বসে মগটা তার হাতে রেখে বললাম…
এই নাও তোমার কফি । ( Short Love Story Bengali )


নিশা তোমার হাতের এক কাপ কফি আমার সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে দেয় গো ।
আমি কিছু বললাম না শুধু একটু হাসলাম কফি শেষ করে আমার দিকে তাকিয়ে বলল…
আর যেটুকু ক্লান্তি থাকে তা তোমার ওই মিষ্টি মুখটা ও ওই মিষ্টি ঠোঁটের স্বাদ সবকিছু দূর করে দেয় ।


এটুকু বলেই রোহিত আমাকে কাছে টেনে ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো সারাদিনের তৃষ্ণা মিটিয়ে ছাড়বে না এখন আমাকে এটা তার প্রতিদিনের রুটিন এর কাজ অনেকটা সময় পর ছাড়লো আমাকে । আর তখন সে মুচকি হেসে বলল…
এখন আমার একদম রেলাক্স লাগছে মনে হচ্ছে এখন আবার একদিন অফিস করতে পারব । ( Short Love Story Bengali )


তুমি আর ঢং করো না ফিরে এসো এসো আমি খাবার বেড়ে দিচ্ছি।
রোহিত তখন চলে গেল ফিরে সাথে আর আমি ড্রয়িং রুমে বসে রইলাম ভেতরটা আমার উঠতে শুরু করেছে এইসব তো আমার নয় আমার দিদি নিশার । আমি এর কাছে ইশা না নিশা নামে পরিচিত হয়ে কি থেকে যাবো ।
আপনারাই বলেন একজন স্ত্রীর কাছে কতটা যন্ত্রণায় তার স্বামীকে অন্য কাউকে ভেবে তাকে ভালোবাসছি আমার মন চাইছে যে রোহিত আমাকে আমি ভেবেই ভালোবাসি নিসা ভেবে নয় কেন এমন করলে বল তো আপু আমার সাথে তুই ।


ডিনারের সময় রোহিত আমাকে নিজের হাতে খাইয়ে দেয় সব সময় সেটা তার প্রতিদিনের রুটিন রিলেশনশিপ চলাকালীন কথা দিয়েছিল বিয়ের পর সে প্রতিদিন ডিনারের সময় খাইয়ে দেবে আর সেটাই করছে এখন ।
আমি সবকিছু গুছিয়ে রুমে এসে দেখি রোহিত শুয়ে পড়েছে আমি পাশে গিয়ে সুতি আমার দিকে ঘুরে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সে আমাকে বলল… ( Short Love Story Bengali )


আই লাভ ইউ নিশা অনেক অনেক ভালোবাসি তোমাকে আজও সেই ভার্সিটির দেখা প্রথম দিনের মতই ভালবাসি এই ভালোবাসা আমার কোনদিনই কমবে না বরং বাড়বে এই মনে তুমি ছাড়া আর কেউ কোনদিন ছিল না আর আসতে পারবে না।

আমি এইসব কথা শুনে চোখটা বন্ধ করে নিতেই চোখ দিয়ে গরম পানি গড়িয়ে পরলো দুচোখের কোনে পেয়ে রোহিত আমার গলায় মুখ ডুবিয়ে দিলো । একটু একটু করে তার ভালোবাসা গুলি আরো গভীর হতে লাগল তবে আমি পারছি না মন থেকে তার ভালোবাসায় সারা দিতে ।( তো বন্ধুরা আমাদের আজকের শালী যখন বউ বাংলা গল্প টি আপনাদের কেমন লেগেছে অবশ্যই নিচে কমেন্ট করে জানাবেন )


আমার মনের গভীর থেকে বারবার বলে উঠল এই ভালোবাসা এই সুখ কিছুই তন্য রহিত একসময় ক্লান্ত হয়ে আমার গলায় মুখ ডুবিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল কিন্তু আমার চোখে আর ঘুম নেই সেই ভোরের আজান রোহিতকে ডেকে তুললাম শাওয়ার নিতে গেলাম ।


রোহিত আবার ঘুমিয়ে পড়ল । আজ সোমবার আজ বেলা দশটা পর্যন্ত ঘুমাবে সে সোফায় বসে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলাম রোহিতের ঘুমন্ত মুখটা দেখি আমার পক্ষে আর সম্ভব হয়না রোহিতের কাছে তার নেশা হয়ে বাঁচা আরে অধিকারীর ভালোবাসা গ্রহণ করা । একটা কাগজ নিয়ে লিখতে শুরু করে দিলাম…


প্রিয় রোহিত,
ভালোবাসি তোমাকে কিন্তু আমার পক্ষে আর সম্ভব নয় তোমার কাছে থাকা অবাক হচ্ছ কিন্তু কিছু করার নাই এটাই বাস্তব সত্য আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি নিজের সাথে যুদ্ধ করতে করতে আর পেরে উঠতে পারছি না বিশ্বাস করো তোমাকে ভালোবাসার আগে এত কঠিন ছিল না তোমার নিশা হয়ে বাঁচা ।

কিন্তু যতদিন গেছে ততই বেশি তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি আর কঠিন হয়ে পড়েছে নেশা হয়ে থাকা শেষ পর্যন্ত হেরে গেলাম আর পারছিনা আমি নেশা নয় আমি নেশা 2 মিনিটের ছোট বোন তিশা । নিশা তোমাকে বলেছিল বিয়ের দিন তোমাকে একটা সারপ্রাইজ দিবে ।

Short Love Story In Bengali


সেটা হলো আমার আর নিশার মাস থেকে আসল নিশা কে খুঁজে নিতে হতো তোমাকে কিন্তু তার আগেই সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেল । তুমি তখন কলকাতার বাইরে ছিলে একটা অ্যাক্সিডেন্টে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আপুকে ‌। আমরা পাগলের মতো ছুটে যায় তার কাছে ।


সেদিন আপু মৃত্যুর আগে আমার হাত ধরে অনুরোধ করেছিল আমাকে নিশা হয়ে বাঁচতে কারণ তুমি বাঁচতে পারবে না নেশা ছাড়া মৃত্যুশয্যায় থাকা বোনের আকৃতি ফেরাতে পারিনি আমি সেইদিন সব সময় চাইত আমি তাকে আপু বলেই ডাকে কিন্তু আমি তাকে কোনদিন দেখেনি তাই শেষবার তাকে আমি আপু বলে দেখেছিলাম । ( তো বন্ধুরা আমাদের আজকের শালী যখন বউ বাংলা গল্প টি আপনাদের কেমন লেগেছে অবশ্যই নিচে কমেন্ট করে জানাবেন )


সেদিন তাকে বলেছিলাম এখন থেকে আমি সব সময় আপু বলে ডাকব চিৎকার করে আপু আপু করে ডেকে বলেছিলাম অনুরোধ করেছিলাম আমাদের ছেড়ে যাস না কিন্তু শুনল না সে চলে গেল না ফেরার দেশে আর আমি হয়ে গেলাম তোমার নিশা । কিন্তু আমি আর পারছি না নিশা হয়ে থাকতে ।


তুমি যতবারই নিশা বলে ডেকে ভালোবেসে কাছে টেনে নাও ততোবারই আমি ক্ষতবিক্ষত হয়ে চেয়েছিলাম তোমাকে সত্যটা বলে তে কিন্তু কখনো পারেনি গতকাল রাতে তুমি বলেছিলে নিশা ছাড়া কারো জায়গা নেই তোমার মনে তাই আর সাহস হয়নি । যদি তুমি ধোকাবাজ ছলনাময়ী বল তবে আমি সেটা সহ্য করতে পারবো না আর এই অধিকার এ ভালোবাসা ও সহ্য করতে পারছি না আর আমি তোমার নেশা হয়ে বাঁচতে পারব না তাই আমি চলে যাচ্ছি ভালো থেকো একটা কথা বলার অধিকার নেই তাও বলছি ভালোবাসি ,আমিও তোমাকে খুব ভালোবাসি । ( শালী যখন বউ )


আপুর খবরটা আমাদের বাড়ির দক্ষিণ দিকে বাঁধানো আছে পারলে মাফ করে দিও আমাকে আর আপুর কাছে মাফ চেয়ে নিলাম তোকে দেওয়া কথা রাখতে না পারার জন্য ।
ইতি তোমার অপরাধী তিশা ।


চিঠিটা বেডের পাশে টেবিলে রেখে দিলাম রোহিতের ফোনের নিচে রোহিতের ঘুমন্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে রইলাম কিছুটা সময় কপালে চুলগুলো সরিয়ে একটা চুমু এঁকে দিলাম আর তার ঠোটে ঠোটে আসতে গেলে হাত জড়িয়ে ধরে । ( শালী যখন বউ )


আস্তে আস্তে হাত সরিয়ে নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেলাম ওর দিকে বেশি সময় তাকিয়ে থাকলে যেতে পারবো না । আমি তাই বাড়ির দেওয়ালগুলো শুয়ে দেখলাম প্রতিটা জায়গায় কত স্মৃতি জমা হয়েছে এক বছরে । সব চোখের সামনে ভেসে উঠলো ।

আমি আর দেরী না করে তাড়াতাড়ি বের হয়ে গেলাম এই বাড়ি থেকে চোখের পানি বাঁধ মানছে না আর কিছু আনেনি ও বাড়ি থেকে কারণ এগুলো আমাকে না সব নিশা কে দিয়েছিল তার রোহিত তাই এতে আমার কোন অধিকার নেই ।( শালী যখন বউ )

রোহিতের ঘুম ভাঙলে রোহিত ডেকে বলে নিশা এক কাপ কফি দিয়ে যাও এখনো ডাকো নি পর্যন্ত বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতে চলল ।
কিন্তু কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে রোহিত আশেপাশে আছে দেব ফোন খুঁজতে লাগল না পেয়ে টেবিলের দিকে তাকানো ফোন দেখতে পেল । আর তার নিচে একটা ভাঁজ করা কাগজ কাগজ দেখে কপাল কুঁচকে গেল রোহিতের কৌতুহল নিয়ে উঠে বসে ফোন আর কাগজ হাতে নিল ।

short bengali love story

Short Love Story Bangla, শালী যখন বউ, Short Love Story Bengali, Short Love Story In Bengali,
শালী যখন বউ


ফোনে টাইম দেখল সাড়ে পাঁচটা বাজে এত বেলা হয়ে গেল নিশা তাকে ডাকেনি ভেবে কপাল কুঁচকে গেল তারপর কাগজ খুলে দেখলো চোখ কচলাতে কচলাতে চিঠিটা পড়তে লাগল সে চিঠি পড়ে পাথরের মত বসে রইল সব কিছু মিথ্যা মনে হচ্ছে এখন তার কাছে থেকে উঠে দেখে চিত্কার করে নিশাকে ডেকে বলল…


নিশা নিশা,এই নিশা…. এটা কি ধরনের ফাজলামি । রোহিতের চিৎকারে বাড়ির চাকর দৌড়ে এসে বলল ।
কি হয়েছে স্যার।
তোমার ম্যাম, ম্যাম কোথায় ‌?
আমি ভেবেছিলাম ম্যাম আর আপনি ঘুমিয়ে আছেন আর আমি ওনাকে সকাল থেকেই দেখিনি । ( Short Love Story In Bengali)


সার্ভেন্ট এর কথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল রজতের মাথায় সারাবাড়ি তন্নতন্ন করে খুঁজেও নিশাকে খুঁজে পেল না কোনরকম ফ্রেশ হয়ে নি ছাদের বাড়ির দিকে গাড়ি ছুটলো । নিষাদের বাড়িত না পেয়ে চেষ্টা দেখালো ওর বাবা মাকে । মিশার বাবা মা মাথা নিচু করে বলল চিঠিতে যা লেখা আছে সবই সত্যি ।

নিশা আর তিশার একসাথে তোলা অনেক ছবিও রোহিতকে দেখালো এইসব শুনে পায়ের নিচের মাটি সরে গেল রোহিতের ফ্লোরে বসে পড়লো ধপ করে আর চোখ থেকে টপটপ করে পানি পরছে । তার নিশা এক বছর আগেই মারা গিয়েছিলো আর সেটা সে আজ পর্যন্ত জানতে পারল না । ( Short Love Story In Bengali)


নিজের বাবা-মার কবর দেখালো রোহিতকে কবরের পাশে বসে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগল রহিত করে বড় বড় করে নিশার নাম জন্ম তারিখ ও মৃত্যু তারিখ লেখা শুধু কাঁদতে কাঁদতে বলল,,…


তোমরা দুই বোন মিলে আমার সাথে এমন কেন করলে নিশা প্রথমে তুমি চলে গেলে আর আজ তিশা আমিতো ওকে ভালোবেসেছি তিশা ভেবে না হলেও নিশা ভেবে । ওকে ছাড়া কি করে থাকবো এখন আমি যে আমার নিঃশ্বাসে মিশে গেছে ভালোবাসি ওকে অনেক কোথায় খুজবো এখন তাকে ।
দেখ দেখতে দেখতে কেটে গেল তিন টে মাস । রোহিতা ও তিশার বাবা এমন কোন জায়গা নেই যেখানে তীশাকে খুঁজে নি ।

অপরদিকে সমুদ্র সৈকতে দাঁড়িয়ে আছে তিশা সমুদ্র থেকে ভেসে আসা ঠান্ডা বাতাস আমার লম্বা চুলগুলো উড়াচ্ছে । ভেবেছিলাম অধিকারহীন ভালোবাসা থেকে দূরে চলে গেলে ভালো থাকব । কিন্তু ভালবাসার মানুষের থেকে দূরে থাকা অধিকারহীন ভালোবাসার চেয়েও যন্ত্রণাদায়ক হবে সেটা বুঝতে পারেনি ।


কিন্তু আমার ফিরে যাওয়ার মুখ নেই সারা জীবন এই যন্ত্রণা সহ্য করে বাঁচতে হবে আমাকে সন্ধ্যা হয়ে আসছে বাসায় ফিরতে হবে। এ সময় বাইরে থাকা ঠিক হবে না পিছনে ফুরে কারো বুকে ধাক্কা খেলাম বিরক্ত নিয়ে লোকটার মুখে তাকাতে জমে গেলাম ।
র র রহি তুমি রহিত তুমি।


কেন অন্য কাউকে আসা করেছিলে নাকি তুমি ।
এতদিন পর ভালবাসার মানুষকে পেয়ে নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না । তাই তাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলাম । কিন্তু রোহিত আমাকে সরিয়ে নিল নিজের থেকে আর আমার কান্না থামে গেল । কিছু সময়ের জন্য ভুলে গেছিলাম যে রহিত এখন জেনে গেছে আমি নিশা নয় তিশা । ওর থেকে দূরে সরে আসতে চাইলে আমার আবারও চেপে ধরে বলল সে …
আবার কোথায় যাচ্ছ তুমি?


আমি আমার মাথা নিচু করে রাখলাম কিছু বললাম না রোহিত আমার গলা চেপে ধরে মুখটা তুলে বললো…
কিভাবে পারলে আমাকে একা রেখে আসতে একটিবারও মনে হয়নি আমি কিভাবে থাকবো তোমাকে ছাড়া আমি কি কম ভালোবেসেছিলাম তোমাকে ?
ভালোবেসে ছিলাম কিন্তু আমাকে নয় নিশাকে আর সেই ভালোবাসা আমার কোন অধিকার নেই । অধিকারহীন ভালোবাসা নিতে পারছিলাম না আমি আর সেটা সহ্য হচ্ছিল না ।


রোহিত আমাকে আরেকটি নিজের দিকে টেনে নিয়ে বলল …
কেন থাকবে না তোমার অধিকার আমার ভালবাসার উপর এখন শুধু তোমারই অধিকার আছে নিশা নিজে দিয়ে গেছে সেই অধিকার আর আমি দিয়েছি কবুল বলে তোমাকে বিয়ে করে সেই অধিকার।

কিন্তু…?
আর কোন কিন্তু না বিয়ের পর তোমাকে নতুন করে আবিষ্কার করেছিলাম । আমি কারণ তোমার মাঝে অনেক কিছু পেয়েছি যা কখনো নিশার মাঝে খুঁজে পাইনি । তখন কারণটা বুঝতে না পারলেও । এখন বুঝতে পেরেছি কারণ তোমরা দুজন আলাদা আলাদা মানুষ ছিলে ।


নতুন করে প্রেমে পড়েছিলাম বধু বেশে থাকা তোমাকে দেখে সেটা তো নেশা ছিল না তুমি ছিলে বিয়ের পর তোমার ছোট ছোট বিষয় গুলি আমাকে নতুন করে প্রেমে পড়তে বাধ্য করেছিল তোমার । সেটা নিশা নায় তুমি ছিলে যার ভেজা চুলে নাক ডুবিয়ে নতুন করে ভালবেসেছিলাম সেটা তুমি ছিলে ।


তাহলে তুমি কেন বলছো অধিকারহীন ভালোবাসা নিস আমার প্রথম ভালোবাসা ছিল তার জন্য মনের কোণে একটা জায়গা থেকে যায় । কিন্তু তার থেকে অনেক বেশি জায়গা দখল করে এখন তোমার বসবাস ।


এইসব কথা শুনে চোখ থেকে টপ টপ করে পানি পড়ছে আমার তবে আজ এটা কষ্টের নয় চোখের পানি ।
কিন্তু তুমি আমাকে আমার অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চেয়েছিলে সেটা আমি মাফ করবো না তোমাকে ।

রোহিতের বুক থেকে মাথা সরিয়ে ওর মুখের দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকালাম ।
একটা ছেলের জীবনের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত হচ্ছে বাবা হওয়ার নতুন অনুভূতি পাওয়ার মতো আর তুমি সেটা আমাকে থেকে কেড়ে নিতে চেয়েছিল ।


আসলে ফিরে যাওয়ার মুখ ছিল না আমার মাফ করে দাও আর কখনো এমন ভুল করবোনা কিন্তু তুমি কিভাবে জানলে আর আমার খোঁজ পেলে কিভাবে ?
তোমার যে বান্ধবীর সাহায্যে এখানে এসেছ প্রথমে তার কাছে গিয়েছিলাম কিন্তু সে কিছু বলেনি গতকাল যখন তোমার প্রেগনেন্সির কথা সে জানতে পারে তখন বাচ্চার ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমাকে ফোন দিয়ে সব বলেছে । তাই সকাল সকাল রওনা দিয়ে আর এখন তোমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে ।


ভালোবাসি ।
আমিও ভালোবাসি তোমাকে আর কখনো তোমার থেকে দূরে যাওয়ার চিন্তাও করবো না এই বলে দিলাম ।
মনে মনে বললাম ধন্যবাদ আপু রোহিতের মত একজন মানুষ দিয়ে যাওয়ার জন্য আজ তার ভালোবাসার আমার অধিকার আছে আপু ।

তো বন্ধুরা শালী যখন বউ গল্প টি এখানে শেষ করলাম। আমাদের আজকের Short Love Story Bangla romantic golpo টি আপনাদের কেমন লেগেছে অবশ্যই নিচের কমেন্ট করে জানাবেন । আর নিয়মিত এরকম Chhota Golpo গল্প পড়তে চাই পেতে আমাদের সাথে থাকবে।

গল্প টি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন

1 thought on “EK NEW Short Love Story Bangla – শালী যখন বউ 2022”

Leave a Comment