দুষ্টু বউয়ের মিষ্টি অভিমানী ভালোবাসার গল্প 2022

হ্যালো বন্ধুরা এই গল্পতে আমরা একটি দুষ্টু মিষ্টি বউয়ের অভিমানী ভালোবাসার গল্প জানাবো আপনা দের তো গল্পটি শেষ পর্যন্ত পড়বেন। প্রথমেই বলি আমি তানভীর আর আমার স্ত্রীর নাম পায়েল । তবে চলুন শুরু করা যাক আজকের গল্পটি টি ।

সন্ধ্যাবেলায় যখনই বাসায় ঢুকতে যাবো তখনি পায়েল মানে আমার বউ আমার পথ আটকে দাঁড়ালো আর আমার হাতের দিকে তাকিয়ে বলল ….
কই?


কি কই গো ?
আমার ঈদের কাপড় কোথায় তুমি কি আমাকে ঈদে কাপড় দেবে না?
কোথায় মানে, আমি জানিনা তাছাড়া তুমি ঈদের কাপড় কিনে কখন?
আমি কিনি নাই কিন্তু তোমাকে তো আজ সকালে বলেছিলাম আসার সময় আমার জন্য একটা শাড়ি নিয়ে আসতে, ওটা আনো নি কেন ?

অভিমানী ভালোবাসা

অভিমানী ভালোবাসার গল্প
অভিমানী ভালোবাসার গল্প


আসলে তোমাকে আর কী বলবো বস এখনো এই মাসের বেতন টা আমাকে দেয়নি, আর তাছাড়া হাতে তেমন টাকাও নেই তাই আনতে ভুলে গেছি।
তুমি কথায় কথায় মিথ্যা কথা বলতেসে কে নিয়েছে গত কালই তো তোমার প্যান্টের পকেটে 4000 টাকা দেখলাম, সে গুলো কোথায় গেল ?


আসলে ওই টাকাগুলো আমার এক কলিগকে দিয়ে দিয়েছি ?
কেন ?
মানে ওনার হাতে খরচের কোন টাকা নেই, তাই আমার কাছে এসে কিছু টাকা ধার চাইলেন আর বললেন বেতনটা পেলেই টাকাটা পরিশোধ করে দিবেন ।

অফিসে ওনার সাথে আমার বেশ ভালো বন্ধুত্ব, তাই ওনাকে খরচের জন্য ওই টাকাগুলো দিয়ে দিয়েছি ।
বাহ খুব ভালো, খুবই ভালো । হাতে নিজের খরচের টাকা নেই আর তুমি সেই টাকা তোমার এক কলিগ কে দিয়ে দিলে । এখন আমরা কিভাবে চালাবো শুনি ?

অভিমানী ভালোবাসার গল্প


তারপর আমি আর সেখানে না দাঁড়িয়ে রুমে চলে আসলাম । রুমে এসে অফিসের ব্যাগটা বিছানায় রেখে ফ্রেশ হতে চলে গেলাম । ফ্রেশ হয়ে বসলাম থেকে বেরিয়ে দেখলাম পায়েল আর রুমে নেই?

তাই ব্যাগ থেকে ল্যাপটপ টা বের করে অফিসের একটা কাজে লেগে পড়লাম । কাজ করতে করতে কখন যে রাত দশটা বেজে গেল । সেই দিকে আমার কোন খেয়ালই নেই । হঠাৎ মাথায় আসলো এত সময় একবারও পায়েল রুমে আসলো না কেন ? তাহলে পায়েল কোথায় গেল !


তৎক্ষণাৎ ল্যাপটপ টা বন্ধ করে রুম থেকে বেরিয়ে ডাইনিং রুমে আসতে বড় ধরনের একটা শক খেলাম । দুষ্টু বউয়ের মিষ্টি অভিমানী ভালোবাসার গল্প


পায়েল ডাইনিং টেবিলে বসে রাতের খাবার খাচ্ছে! কিন্তু পায়েল আজ আমায় খেতে ডাকলো না কেন ? হয়তো ডেকেছে কিন্তু আমি কাজের ফাঁকে হয়তো শুনতে পাইনি । যাই হোক এত কিছু না ভেবে আমিও হাত পা ধুয়ে এসে একটা চেয়ার টেনে পায়েলের পাশে বসলাম ‌।


কিন্তু আমি পাশে বসতেই পায়েল তার প্লেট নিয়ে উঠে রান্না ঘরে চলে গেল। বুঝলাম না পায়েলের কি হলো, সে উঠে পড়লো কেন ?দুষ্টু বউয়ের মিষ্টি অভিমানী ভালোবাসার গল্প
যাই হোক পরে ভাবলাম হয়তো পায়েলের খাওয়া শেষ হয়ে গেছে মনে হয় তাই সে উঠে পড়েছে । এর পরে আমিও টেবিলে ফাঁকা খাবার প্লেট নিয়ে খেয়ে নিলাম ।


খাবার খাওয়া শেষে আমি রুমে চলে আসলাম। রুমে এসে দেখে আমার চোখ কপালে উঠে গেল দেখি পায়েল বিছানার একপাশে ঘুমিয়ে আছে আর মাঝখানে একটা কোলবালিশও দিয়ে রেখেছে । এতক্ষণে বুঝলাম মহারানী আমার উপর রাগ করেছেন তাই আজ এমনটা করছেন।


তোমার কি হয়েছে ঘুমাতে দেবে না নাকি? (রাগান্বিত অবস্থায়)
তোমাকে ঘুমাতে না করেছি নাকি?
তো হুট করে এসে জড়িয়ে ধরলে কেন তুমি জানো না আমাকে কেউ জড়িয়ে ধরলে আমার ঘুম আসেনা?


এরকম পায়েলের কথা শুনে তো আমি এক্কেবারে অবাক। এইসব তুমি কী বলছো পায়েল তুমি তো সেই বিয়ের প্রথম রাতে আমায় বললে ঘুমানোর সময় যেন আমি তোমায় জড়িয়ে ধরে ঘুমায় নইলে তোমার ঘুম আসে না , আর আজ তুমি….

তো আমাদের অভিমানী ভালোবাসার গল্প কেমন লেগেছে ।


হ্যাঁ কথাটা বলেছিলাম আর আজ এটা বলছি এখন আমাকে কেউ জড়িয়ে ধরলে আমার ঘুম আসে না । সো প্লিজ আমাকে আর ভুলেও টাচ করবে না আর এই কোলবালিশের এই সাইডে ভুলেও আসবে না বুঝেছো।


এটা বলেই সে অন্যদিকে ফিরে ঘুমিয়ে পরলো। পায়েলের এরকম কথা শুনে হালকা কষ্ট পেলেও কিছু না বলে আমি অন্য দিকে ফিরে ঘুমিয়ে পড়লাম । আম্মুর ইচ্ছেতেই পায়েলকে বিয়ে করেছিলাম বিয়ের এখন এক বছর পূর্ণ হয়নি।

ভালোবাসার গল্প

রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প, রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প কাহিনী, রোমান্টিক ভালোবাসার ছোট গল্প, ভালোবাসার রোমান্টিক গল্প , স্বামী স্ত্রীর রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প, বউ এর সাথে রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প, বাংলা রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প, ভালবাসার রোমান্টিক গল্প, রোমান্টিক প্রেমের ছোট গল্প, রোমান্টিক গল্প ভালোবাসার গল্প,
ভালোবাসার গল্প


সে ধনী পরিবারের মেয়ে হয়েও আজ পর্যন্ত কখনো আমার কাছে কিছু চাইনি । কয়েকদিন আগে একটা শাড়ি চেয়েছিল ঈদের দিনে পড়ার জন্য । কিন্তু আমি ইচ্ছে করে ওকে শাড়িটা এনে দেই নি , তার একটাই কারণ আছে যা কালকে প্রকাশ করবো ‌।


পরের দিন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে আমি অফিসের দিকে রওনা দিলাম । সারাদিন অফিসের কাজ করতে করতে কখন যে সন্ধ্যা হয়ে আসলো সেদিকে আমার কোন খেয়ালই নেই ।


হঠাৎ এক কলিগ বাসায় যাওয়ার কথা বললে ফোন হাতে নিয়ে দেখি সাতটা বেজে গেছে। তারপর তাড়াতাড়ি করে উঠে ব্যাগ গুছিয়ে অফিস থেকে বেরিয়ে একটা শপিং মলে গেলাম।

যদি অভিমানী ভালোবাসার গল্পটি ভালো লাগে থাকে তো অবশ্যই নিচে কমেন্ট করে জানাবেন।
এরপরে একটা দোকানে ঢুকে পায়েলের জন্য নীল কালারের একটা সুন্দর শাড়ি আর নিজের জন্য নীল কালারের একটা পাঞ্জাবি কিনে শপিং মল থেকে বেরিয়ে আসলাম।


এই করতে করতে প্রায় রাত বারোটা ছুই ছুই , আমি এখনো বাসায় ফিরেনি দেখে পায়েল আমার নম্বরে লাগাতার কল দিতে লাগলো। কিন্তু পায়েল যতবারই কল দিচ্ছে আমি ততবারই তার কল কেটে দিচ্ছি ।


পায়েল এটা ভাবছে হয়ত আমার গতকালের ব্যবহারে সে কষ্ট পেয়ে এখনো বাসায় আসছে না আর বারবার কল কেটে দিচ্ছে ।
আমারও ভুল হয়েছে, গতকাল ওর সাথে এমন ব্যবহার করো না করলেও হতো । আর এক বছর ঈদের কাপড় না পড়লেই বা কি ?


পায়েল মনে মনে এরকম নানান কথা ভাবছে আর আমার জন্য চিন্তা করছে ঠিক তখনই কলিং বেল বেজে উঠলো । পায়েল দৌড়ে গিয়ে বাসার দরজা খুলে দেখে আমি দাঁড়িয়ে আছি একহাতে একটা বক্স আর এক হাতে দুটো ব্যাগ আর কাঁধে অফিসের ব্যাগ।

দুষ্টু মিষ্টি ভালোবাসার গল্প


আমাকে এমন অবস্থা তো দেখে ও পায়েল সাথে সাথে আমাকে জাপটে জড়িয়ে ধরল নিজেকে কোনরকম সামলে পায়েলকে বললাম….


এই যে মহারানী আরেকটু জন্যতো হয়তো পড়ে যেতাম, এভাবে কি কেউ জড়িয়ে ধরে নাকি?
কেউ না ধরলেও আমি ধরি, আর তুমি এত রাত পর্যন্ত কোথায় ছিলে? গো জানো তোমার জন্য কত চিন্তা হচ্ছিল আমার?


আরে পাগলি আমার কাঁদছো কেন? আর সরি এত রাত করে বাসায় আসার জন্য। আসলে এইসব আনতে গিয়ে একটু দেরি হয়ে গেছে! প্লিজ কাঁদা বন্ধ করো।
কি এনেছ এসব?
তোমার জন্য ঈদের গিফট?
ঈদের গিফট মানে !


মানে এখানে তোমার জন্য একটা শাড়ি রয়েছে আর আমার জন্য একটা পাঞ্জাবী, শাড়িটা হল তোমার ঈদের গিফট ।
কিন্তু তুমি না বললে তোমার এক কলিগকে ….


ওইটা তোমার সাথে মজা করেছিলাম । আমার একটাই মাত্র বউ আর এই প্রথম আমার কাছে কিছু চেয়েছে সেটা যদি তাকে না দিই তাহলে কি করে হয়?
শয়তান আমাকে কষ্ট দিয়ে এখন হাসা হচ্ছে তাই না? (আমার বুকে কিল ঘুষি মেরে)

দুষ্টু বউয়ের মিষ্টি অভিমানী ভালোবাসার গল্প


আরে এভাবে মেরো না ব্যাথা পাচ্ছি যে!
আর যদি কখনো আমাকে কষ্ট দিয়ে দিয়েছে তো তোমার খবর আছে হু ।
আচ্ছা আর কখনো তোমাকে কষ্ট দিবো না মেরি জান ।
আর এই বক্সে কি আছে গো!
কেক

কেক কেন ?
বারে আজ আমাদের প্রথম বিবাহবার্ষিকী, ওইটা একটু পালন করবো না? তাই এই কেকটা নিয়ে আসলাম ।
আর যে আমাদের প্রথম বিবাহবার্ষিকী এটা তোমার মনে আছে।
হুম এটা আবার না থাকার কি আছে ?

দুষ্টু বউয়ের মিষ্টি অভিমানী ভালোবাসার গল্প


আমার কথা শুনে খুশিতে পায়েলের দুচোখ জলে ভরে উঠলো । চোখের পানি নিচে পড়ার আগেই পায়েল আবার আমার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়লো ।
তোমার মত একটা স্বামী পেয়ে আমি সত্যিই আজ ধন্য ও গর্বিত ।
আর তোমার মত একটা স্ত্রী পেয়ে আমিও ধন্য এবার ভিতরে চলো কেক কাটবে না নাকি ?


হুম চল ? তারপর দুজনে মিলিয়া চুটিয়ে কেক খেয়ে আমাদের পুরনো সেই প্রথম ভালোবাসার গল্প করতে থাকলাম। ও তার সেই বাসর রাতে অভিমানী ভালোবাসার গল্প আমরা দ্বিতীয়বার শুরু করলাম ।
তারপর পায়েলকে নিয়ে ভিতরে এসে বক্স থেকে কেক টা খুলে টেবিলে রাখলাম এরপর একটা ছুরি দিয়ে কেক টা কেটে একটু কেক পায়েলকে খাইয়ে দিলাম ‌‌।

পায়েল ও সেখান থেকে একটু কেক নিয়ে আমাকে খাইয়ে দিল অবশেষে পায়েলের জন্য আনা নীল সাড়িটা তার হাতে তুলে দিয়ে বললাম …
এই যে মহারানী খুলে দেখো পছন্দ হয়েছে কিনা তোমার ঈদের গিফট ‌।
আমার কথামতো পায়েল ব্যাগ থেকে শাড়ীটা খুলে কিছুক্ষন দেখার পর বললো…


হুম খুব সুন্দর হয়েছে, তবে এরকম ঈদের গিফট যেন প্রতিবছরই পাইলে কিন্তু তোমার খবর আছে হু ।
আচ্ছা আমার পাগলি ।

আজকের মত গল্পটি এখানেই সমাপ্ত । তো গল্পটি আপনাদের কেমন লেগেছে । দুষ্টু বউয়ের মিষ্টি ভালোবাসার গল্প নিচে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন ।

তো আমাদের আর নতুন নতুন গল্প গুলি পড়ুন — Click here

গল্প টি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন

Leave a Comment